ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: বাণিজ্য চুক্তি টালবাহানা হলে শুল্ক বাড়বে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৯ বার
ট্রাম্প বাণিজ্য শুল্ক হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন এমন দেশগুলোর প্রতি যারা মার্কিন সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ‘টালবাহানা’ করতে পারে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এসেছে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পর, যেখানে তার প্রশাসনের আরোপিত বৈশ্বিক শুল্ক স্থগিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কেউ যদি সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে পূর্বের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে, তাহলে তাদের ওপর আরও কঠোর শুল্ক আরোপ করা হবে। এই বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাণিজ্য চুক্তিতে অগ্রাধিকার না দিলে যুক্তরাষ্ট্র অপেক্ষা করবে না।

গত বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কয়েকটি দেশের উপর বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছিল। এরপর বছরের বিভিন্ন সময়ে কিছু শুল্ক বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তখন তাদের বাণিজ্য কৌশল পুনর্মূল্যায়ন শুরু করে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রায় ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে আরোপিত শুল্ক বাতিল করে, যা প্রেসিডেন্টকে আমদানি পণ্যের ওপর কর আরোপের অধিকার দেয় না বলে জানিয়েছে। এই রায়ের পর ট্রাম্প নতুন আইনগত ভিত্তিতে ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেন, যা দ্রুত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়।

নতুন শুল্কের সাথে ট্রাম্প ১২২ ধারার প্রযোজ্য ক্ষমতাও ব্যবহার করছেন, যা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়। এছাড়া ৩০১ ধারার অধীনে ‘অন্যায্য’ বাণিজ্য সম্পর্কের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এই আইনগুলো ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসন যে কোনো দেশের বিরুদ্ধে দ্রুত শুল্ক আরোপ করতে পারবে।

তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক বাজার ও অন্যান্য দেশের সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘোষণা দিয়েছে, গ্রীষ্মে সম্পাদিত একটি চুক্তির অনুমোদন তারা স্থগিত রাখবে। ভারতও পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করেছে, এবং যুক্তরাজ্য মার্কিন প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছে, তাদের সঙ্গে হওয়া চুক্তি নতুন ১৫ শতাংশ শুল্কের আওতায় কিভাবে বহাল থাকবে। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য সচিব পিটার কাইল বলেন, সর্বশেষ ঘোষণায় সৃষ্ট অনিশ্চয়তা তারা স্বীকার করছে এবং দেশীয় ব্যবসা সুরক্ষায় সব বিকল্প বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ বিশ্ববাণিজ্যে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির সভাপতি বার্নড ল্যাঞ্জ জানান, পরিস্থিতি আগের চেয়ে আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, আদালতের রায়ে তাদের নীতি পরিবর্তিত হয়নি। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘আইনি হাতিয়ার পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে।’

শেয়ারবাজারেও নতুন শুল্কের প্রভাব পড়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারদর প্রায় এক শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি আরও দেশ ও কোম্পানি প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হতে পারে। সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সতর্ক করেছেন, ডেমোক্র্যাটরা শুল্ক বাড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করবে।

সর্বোপরি, ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি এবং নতুন শুল্কের ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। দেশগুলোকে দ্রুত তাদের কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের অবস্থান শক্ত এবং প্রতিটি দেশের উচিত তার সঙ্গে সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা, নইলে শুল্ক বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপের ঝুঁকি বহন করতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবেশে অস্থিরতা বাড়ার পাশাপাশি বাজারে মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহ চেইনে বিভ্রাটও দেখা দিতে পারে। ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চুক্তি ও প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বব্যাপী নজর রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, মার্কিন প্রশাসন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ‘টালবাহানা’ সহ্য করবে না, এবং শুল্কের মাধ্যমেই তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত