প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা–৬ আসনের বাসাবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান গ্যাস সংকটের সমাধান করতে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের নির্দেশ দেন।
বৈঠকে জানা গেছে, ঢাকা–৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের তীব্র ঘাটতির কারণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। রান্না, গরম পানি সরবরাহ ও অন্যান্য গৃহস্থালির কাজে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এলাকার বাসিন্দারা বারবার বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর পরও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য বৈঠকের আয়োজন করেন।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম ছিল বাসাবাড়িতে গ্যাসের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা। সেই লক্ষ্যেই তিনি ধারাবাহিকভাবে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর সমাধানের চেষ্টা করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৈঠকের পরপরই বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা এলাকায় গ্যাস সরবরাহের মানোন্নয়ন ঘটাবে।
বৈঠকে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা, পাইপলাইনের চাপ সংকট, অবৈধ সংযোগ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দেন যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করা হলে এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দ্রুত কমানো সম্ভব হবে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এই বৈঠককে কেন্দ্র করে এলাকার বাসিন্দারা আশাবাদী হয়েছেন। তারা মনে করছেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নজরদারি এবং প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দিকে এগিয়ে নেবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গৃহিণীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে দৈনন্দিন জীবন কঠিন হয়ে উঠবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপ অপরিহার্য।
বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা এবং বিদ্যমান পাইপলাইনের চাপ বৃদ্ধি করা। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুরনো এবং সীমিত ক্ষমতার পাইপলাইন সমস্যার মূল কারণ। অবৈধ সংযোগ ও অতিরিক্ত চাহিদা মিলে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ইশরাক হোসেন এই বিষয়গুলো সমাধানের জন্য তিতাসকে নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে।
এছাড়া, প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সংসদীয় ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দিয়েছেন, তারা গ্যাস সরবরাহের সমস্যা নিরীক্ষণ ও সমাধানের জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, জনগণের স্বাভাবিক জীবন ও দৈনন্দিন কাজের জন্য তিতাস গ্যাস প্রতিটি এলাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি উদ্যোগে এবং তিতাস গ্যাসের সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা–৬ এলাকায় গ্যাস সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তিনি এলাকার মানুষকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান এবং দ্রুত স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান।
ঢাকা–৬ আসনের বাসিন্দারা আশা করছেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সমস্যার অবসান ঘটবে। বৈঠকে চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের পর সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি নজরদারি জনগণের জন্য আশা জাগাচ্ছে।