প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাইমুদ্দীনের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শতাধিক শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলমসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, সোমবার রাতের মাদকবিরোধী অভিযানের সময় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় দুজন সাংবাদিক আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। একই ঘটনায় নাইমুদ্দীনের শারীরিক হেনস্থার বিষয়টি শিক্ষার্থীরা উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর অন্যায়ভাবে হাত ওঠালে তার ফল ভালো হবে না। অতীতেও শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে।”
থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী অর্থ বড়ুয়া অভিযানের সমালোচনা করে বলেন, এটি ছিল একধরনের ‘নাটক’। তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ মাদকাসক্ত ব্যক্তি উন্মুক্ত স্থানে মাদক গ্রহণ করে না। অভিযানের সময় শাহবাগ থানার আশপাশে বড় মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকলেও কখনো বড় কোনো চালান ধরা পড়েনি। তিনি অভিযোগ করেন, ডিসি মাসুদ আলম অভিযানে গেলে সাইরেন বাজিয়ে এবং একাধিক ফেসবুক পেজে লাইভ সম্প্রচার চালিয়ে গোপনীয়তা নষ্ট করেন, যা অভিযুক্তদের পালানোর সুযোগ করে দেয়। শিক্ষার্থীরা এটিকে ‘সেলিব্রেটি পুলিশিং’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জানান, সম্প্রতি তিনি জিডি করতে শাহবাগ থানায় গেলে পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হন এবং তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয়। সিসিটিভি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ফুটেজ না দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছে। এছাড়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাফিনসহ অন্যান্যেরাও পুলিশের পেশাদারিত্ব ও আচরণে আমূল সংস্কারের দাবি জানান।
নাইমুদ্দীন নিজে বলেন, “আমি কোনো অপরাধ করিনি। পুলিশ আমার কাছে কিছুই পাননি। তারপরও আমাকে মাথা, হাত ও পায়ে আঘাত করা হয়েছে। ঘটনার পর আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছি।”
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা তিনটি মূল দাবি উত্থাপন করেছেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরে সব ধরনের হয়রানিমূলক পুলিশিং অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনি বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শাহবাগ থানার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে সতর্ক করেছেন। তারা ডিসি মাসুদ আলমসহ অভিযানে অংশ নেওয়া প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ডিসির নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তদন্ত চললেও ক্ষমা এখনই চাই, কোনো অজুহাত তারা মেনে নেবেন না।
এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কোনো অন্যায় সহ্য করবে না এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ জরুরি। সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি সম্মান বজায় রাখতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও তীব্র আন্দোলন হওয়ার আশঙ্কা শিক্ষার্থীরা প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, পুলিশি নির্যাতন, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং গোপনীয়তার অভাব বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরের সামাজিক সুরক্ষার জন্য মারাত্মক হুমকি।
শাহবাগ থানার সামনে শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি গভীর মানবিক ও সামাজিক বার্তা বহন করে। তাদের দাবি সরকারের কাছে সুস্পষ্ট যে, শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশি শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন অবিলম্বে প্রয়োজন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য তারা সচেষ্ট থাকবেন, তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকবেন না।