প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দর সংক্রান্ত একটি ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীকে ঘিরে নানা অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব অভিযোগে তাকে মাদককাণ্ডে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করা হলেও অভিনেত্রী এই সব তথ্যকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা আখ্যা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুক স্ট্যাটাসে মেহজাবীন স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি বিষয়টি আইনি পথে সমাধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং মানহানিকর প্রচার চালানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মেহজাবীন তার স্ট্যাটাসে জানান, মাদক সংক্রান্ত কোনো ঘটনায় তাকে কখনো বিমানবন্দরে থামানো হয়নি। তার কোনো হ্যান্ডব্যাগ বা লাগেজ আটকানো হয়নি এবং বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করেননি। তিনি আরও বলেন, তাঁর লাগেজে অবৈধ কিছু পাওয়ার দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। “এই অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত কোনো ছবি, ভিডিও বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কি কেউ দেখাতে পেরেছে?”—এমন প্রশ্নও তুলেছেন অভিনেত্রী।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অনলাইন মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ক্লিকবেইটের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সব অভিযোগকে অমূলক দাবি করে মেহজাবীন পুনরায় বলেন, এই অপ্রীতিকর ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেন, “এ ধরনের মানহানিকর প্রচারণা শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, পেশাগত ক্ষেত্রেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।”
গত বছরের আগস্ট মাসে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেহজাবীনের লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়া গিয়েছিল বলে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী ও নির্মাতা আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত। অভিযোগ করা হয়েছিল, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ লাগেজে মদ পাওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি প্রকাশ না করে তাদের ছেড়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক ও গণমাধ্যমে মেহজাবীনকে মাদক সংক্রান্ত ঘটনায় জড়িত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই এবং এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মেহজাবীন বলেছেন, এসব তথ্যের প্রচার ব্যক্তি ও সমাজের জন্য বিভ্রান্তিকর এবং ক্ষতিকর। তিনি জানিয়েছেন, আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিকার নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তার কথায়, “কেউ যদি মানহানি, অবৈধ বা ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ায়, তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আইনি পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের বিনোদন ও মিডিয়া ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষত সেলিব্রিটি ব্যক্তিত্বদের ওপর ভিত্তিহীন অভিযোগ ও সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা প্রতিরোধে এটি গুরুত্ব বহন করছে। মেহজাবীনের এই পদক্ষেপ অন্যান্য শিল্পী ও ব্যক্তিত্বদেরও সতর্ক করবে, যাতে কেউও ব্যক্তিগত বা পেশাগত সম্মানহানির চেষ্টা না করে।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে সেলিব্রিটি ব্যক্তিত্বদের উপর মানহানিকর প্রচারণা সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই প্রমাণভিত্তিক ও সত্যনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশ করা অপরিহার্য। মেহজাবীনের উদাহরণ দেখাচ্ছে, ভুয়া অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিলে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষা হয় না, বরং সমাজে সঠিক তথ্যপ্রচার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্বও পুনর্ব্যক্ত হয়।
মেহজাবীনের স্ট্যাটাস ও আইনি পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকরা তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও যদি মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তা শুধু তার মানহানিই নয়, সাধারণ জনগণকেও বিভ্রান্ত করে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ precedent তৈরি হচ্ছে।
অভিনেত্রী মেহজাবীনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যারা মানহানি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি মেহজাবীন সামাজিক ও অনলাইন মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে শিক্ষামূলক প্রচারণা চালানোর প্রয়োজনীয়তাকেও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, মানহানি ও মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ শুধু ব্যক্তিগত প্রতিকার নয়, এটি সামাজিক দায়িত্ব ও তথ্যের সত্যনিষ্ঠা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বিশেষ করে সেলিব্রিটি ও জনসাধারণের জন্য এটি এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যে, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিকার নেওয়া সম্ভব।