প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের প্রথম দেড় মাসে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সাত হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। দেশটির অভিবাসন বিভাগের উপ মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানানো হয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে এই অভিযান সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, এই সময়কালে মোট এক হাজার ৮৫৫টি অভিযান পরিচালনা করে ৩০ হাজার ১৭৭ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে সাত হাজার ৪৩ জনকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের কারণে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপরাধ রেকর্ড হয়েছে বৈধ ভ্রমণ নথি বা পারমিট না থাকার কারণে। এর মধ্যে চার হাজার ৮০৪ জনের কাছে বৈধ নথিপত্র ছিল না, এক হাজার ২৫০ জন ওভারস্টের অপরাধে জড়িত ছিলেন, পাসের শর্ত লঙ্ঘন করেছে ৮০৬ জন এবং অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্ত ছিল ১৮৩ জন।
অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ফিলিপিন্স, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, ভারত ও চীনের নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। লোকমান এফেন্দি রামলি বলেন, অবৈধ অভিবাসন ও আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি আরও জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার করা হবে।
মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের ওপর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বৈধ নথিপত্র ও অনুমোদনবিহীন অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা। স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়মিত অভিযান এবং কঠোর আইন প্রয়োগের ফলে অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।
এই অভিযান শুধুমাত্র আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করতেই সীমাবদ্ধ নয়, পাশাপাশি বৈধ অভিবাসীদের তথ্য আপডেট ও কাগজপত্রের সঠিক যাচাই-বাছাইও নিশ্চিত করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ বারবার বলে আসছে যে, যারা বৈধ নথি না থাকা সত্ত্বেও দেশে অবস্থান করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এটি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ওপর এই অভিযান নতুন করে সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈধ নথি এবং পারমিট ছাড়া বিদেশে অবস্থান দেশের আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক ঝুঁকিও বৃদ্ধি করে। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের এই অভিযান স্থানীয় জনগণ ও বৈধ অভিবাসীদের জন্য একটি নিরাপদ ও নিয়মিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হচ্ছে।
লোকমান এফেন্দি আরও উল্লেখ করেন, অভিযান চলাকালীন সময়ে আটককৃতদের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও মানবিক অধিকার বজায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের তথ্য নথিভুক্ত করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী বিচারের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া, বিভিন্ন দেশে থেকে আসা শ্রমিক ও অভিবাসীদের যথাযথ অনুমোদনপ্রাপ্ত নথি থাকলে তাদের অবস্থান বৈধভাবে নিশ্চিত করা হবে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের এই ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে ও প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে একটি শক্ত বার্তা দিচ্ছে যে, অবৈধ অভিবাসন ও অননুমোদিত অবস্থান কোনোভাবেই অবহেলা করা হবে না। এর মাধ্যমে দেশের আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং বৈধ অভিবাসীদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনের প্রতি কঠোর মনোভাব দেশীয় অর্থনীতি, শ্রম বাজার ও সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অবৈধ অভিবাসীদের নিয়মিত শনাক্ত ও আটক করার ফলে স্থানীয় ও বৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
এই অভিযান চলমান থাকায় মালয়েশিয়ায় থাকা সকল বিদেশী নাগরিকদের কাছে সতর্কবার্তা গেছে যে, বৈধ নথি ব্যতীত অবস্থান করা আইনের লঙ্ঘন এবং কঠোরভাবে দণ্ডনীয়। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ আশা করছে, এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশে অবৈধ অবস্থানের সংখ্যা কমবে এবং দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে।