ভালুকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬ বার
ভালুকা হামলা ভাংচুর অভিযোগ

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ময়মনসিংহের রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল জনপদ ভালুকা-য় এক রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা তিয়াশ মাহমুদ শুভ দাবি করেছেন, নির্বাচনী বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পায়নি বলে জানিয়েছে, ফলে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও জল্পনা চলছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে একদল যুবক হঠাৎ করে তার বাড়ির সামনে এসে উপস্থিত হয়। তিয়াশ মাহমুদ শুভ জানান, ওই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির মূল ফটকে এসে তাকে খুঁজতে থাকে এবং পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তিনি দাবি করেন, ঘরে ঢুকে তারা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০ হাজার টাকা এবং কিছু গহনা তারা নিয়ে গেছে। হামলার সময় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত সরে পড়ে, তবে যাওয়ার আগে আবার আসার হুমকি দিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিয়াশ মাহমুদ শুভ স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম-এর পক্ষে কাজ করায় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরেই এ হামলা হয়েছে বলে তার দাবি। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা ছিল স্থানীয় কলেজ শাখার ছাত্রদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল, যারা পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, তারা হট্টগোলের শব্দ শুনে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং তখন কয়েকজন যুবককে দ্রুত এলাকা ছাড়তে দেখেন। তবে হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারেননি বলে জানান তারা। স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে চাপা দ্বন্দ্ব চলছিল।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখনো পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। ভালুকা মডেল থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখব এবং সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশের এই অবস্থানের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, অভিযোগ না দিলে তদন্ত শুরু করা কঠিন, আবার অন্যদের মতে, ঘটনাটি যেহেতু জনসমক্ষে আলোচিত হচ্ছে, তাই প্রশাসনের নিজ উদ্যোগে তদন্ত শুরু করা উচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ের সহিংসতার অভিযোগগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা না হলে তা বড় ধরনের সংঘাতের রূপ নিতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচনের সময় বা পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ প্রায়ই সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অনেক সময় অভিযোগ করতে ভয় পান, কারণ তারা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকেন। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা রাখতে পারে।

তিয়াশ মাহমুদ শুভ জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক মতভেদের কারণে কারও বাড়িতে হামলা চালানো কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তার পরিবারের সদস্যরাও ঘটনার পর মানসিকভাবে ভীত হয়ে পড়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে তার ছোট সন্তানরা আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারছে না—এমন কথাও তিনি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ বলেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা জরুরি, কারণ অভিযোগ সত্য হলে এটি গুরুতর অপরাধ। তারা রাজনৈতিক কর্মীদের সহনশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, মতপার্থক্য থাকলেও তা সহিংসতার মাধ্যমে প্রকাশ করা সমাজের জন্য ক্ষতিকর এবং এতে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হয়।

আইনজীবীদের মতে, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে ভাঙচুর, লুটপাট ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো একাধিক ফৌজদারি অপরাধে মামলা হতে পারে। এসব অপরাধের শাস্তি আইন অনুযায়ী কঠোর, বিশেষ করে যদি তা সংঘবদ্ধভাবে সংঘটিত হয়। তাই তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

এ ঘটনায় এখনো অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ফলে অভিযোগের বিষয়ে একতরফা বক্তব্যই সামনে এসেছে, যা যাচাইয়ের জন্য প্রশাসনিক তদন্তের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ভালুকার এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতির উত্তেজনাপূর্ণ বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি শুধু একটি ফৌজদারি ঘটনা নয়, বরং রাজনৈতিক সহিংসতার উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হবে। এখন সবার নজর প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে—তদন্ত কত দ্রুত শুরু হয় এবং প্রকৃত সত্য কতটা স্বচ্ছভাবে সামনে আসে, সেটিই নির্ধারণ করবে এই ঘটনার পরবর্তী গতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত