প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, যে ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, যদিও ইরান মাঝে মাঝে চুক্তির প্রস্তুতি দেখিয়েছে, কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়ে তারা এখনও কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ট্রাম্পের এই ভাষণ নতুন করে আন্তর্জাতিকভাবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ভাষণে তিনি ২০২৫ সালে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “হামলার পরে, ইরানকে সতর্ক করা হয়েছিল যে ভবিষ্যতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি শুরু করা যাবে না। তবে তারা তা অব্যাহত রেখেছে এবং বর্তমানে পুনরায় উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের চেষ্টা করছে।” ট্রাম্প আরও বলেন, “আমার পছন্দ হলো কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা, কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত—আমি কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার অনুমতি দেব না।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থানে রয়েছে। ট্রাম্পের নির্দেশ এবং হুঁশিয়ারির ফলে কূটনৈতিক আলোচনায় চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে, বিশেষ করে ইরানকে নিয়ে আসা যে কোনো চুক্তির প্রক্রিয়ায়। ট্রাম্পের ভাষণ মূলত ইঙ্গিত দেয় যে, কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান সম্ভব হলেও প্রয়োজন হলে সামরিক বিকল্পও খোলা রাখা হবে।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা বারবার দাবি করেছেন, তাদের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড কেবল বেসামরিক ব্যবহারের জন্য এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, “ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।” এ ধরনের বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে ইরান আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং কূটনৈতিক আলোচনা সমর্থনে অঙ্গীকারবদ্ধ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের কঠোর ভাষণ এবং ইরানের অঙ্গীকারের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও শক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে অব্যাহত উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি, ইরানের প্রতিশ্রুতি এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনা সবাইকে সতর্ক থাকতে বাধ্য করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ঘোষণা শুধু ইরানকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার অর্থ নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সংকেতও যে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান নেবে। এই সংকেতের ফলে মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে ইরানের প্রতিশ্রুতির মিলন ঘটলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে পেতে পারে, তবে সামরিক বিকল্প এখনও আলোচনার বাইরে রাখা হয়নি।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই উত্তেজনা নতুন নয়। ২০১৫ সালের পরমাণু সমঝোতার পরও দুই দেশের মধ্যে আস্থা পূর্ণভাবে স্থাপন হয়নি। ট্রাম্পের ভাষণ একপাশে শক্তিশালী হুঁশিয়ারি জারি করলেও অন্যপাশে কূটনৈতিক সমাধানের দরজা খোলা রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উভয় পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে সংবেদনশীল অঞ্চলে সংঘাত এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
বিশ্বজনীন নিরাপত্তা, অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এই বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক দেশের কূটনৈতিক পরামর্শদাতা মনে করছেন, ট্রাম্পের কঠোর ভাষণের পরও কূটনীতি ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, উভয় দেশের পদক্ষেপের ফলাফল শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সংক্ষেপে, ট্রাম্পের ‘ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র দেওয়া হবে না’ ঘোষণা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করে না, এটি মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে, কূটনীতির সঙ্গে সামরিক বিকল্পের সম্ভাবনা উভয়ই থাকা সত্ত্বেও। ইরানের প্রতিশ্রুতি ও যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি মিলিতভাবে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত বিতর্কের ধরণ নির্ধারণ করবে।