পাকিস্তান সিরিজের আগে দেশে ফিরবেন সাকিব: বিসিবি আশাবাদী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪ বার
সাকিব আল হাসান দেশে ফেরা

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দেশের মাটিতে ফিরতে যাচ্ছেন—এই সম্ভাবনার দিকে আশাবাদী বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবি। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আগে সাকিবকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবর। তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে, ফলে সাকিবের দেশে ফেরা প্রায় নিশ্চিত।

দিন কয়েক আগে জানা গিয়েছিল, সাকিব আল হাসানের মামলার সব প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বিসিবি। গতকাল সেই কাগজপত্র যথাযথভাবে সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন সরাসরি এই দায়িত্ব পালন করেছেন। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সাকিবকে দেশে ফেরানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আগের সময়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে খেলা ও রাজনীতি আলাদা রাখা হবে। তার এই ঘোষণার পরই সাকিবের ফেরার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। বিসিবির পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ওয়ানডে সিরিজের আগে সাকিব দেশে পৌঁছাবেন। তবে সাকিবকে সিরিজে খেলানো হবে কি না, সেটি পুরোপুরি নির্বাচক কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আসিফ আকবর জানান, “সাকিবের দেশে ফেরা নিশ্চিত, তবে সিরিজে খেলবে কিনা, তা নির্বাচকদের সিদ্ধান্তে নির্ভর করছে।”

দেশে ফেরার উচ্চ সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সাকিব নিজেও প্রস্তুতি শুরু করেছেন। বর্তমানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজেকে ফিটনেস ও প্রস্তুতির দিকে মনোনিবেশ করেছেন। তার দৃঢ় ইচ্ছা, জাতীয় দলে ফিরে ঘরের মাঠে খেলতে এবং দেশের ক্রিকেটকে নতুন শক্তি দিতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাকিবের এই ফিটনেস প্রক্রিয়া তার মানসিক দৃঢ়তা এবং দেশের ক্রিকেটের প্রতি দায়বদ্ধতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করছে।

উল্লেখযোগ্য যে, সাকিব সর্বশেষ খেলেছিলেন ২০২৪ সালে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে। এর আগে ওই বছরই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। ফলে প্রায় দুই বছর পর ঘরের মাঠে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে দেখা যাবে এই বিশ্বমানের অলরাউন্ডারকে। সমর্থকরা অপেক্ষা করছেন তার প্রত্যাবর্তনের জন্য, যা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে।

বিসিবি চাইছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সাকিবকে খেলানো সম্ভব হলে তার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা দলের জন্য বড় সহায়তা হবে। তিন ওয়ানডে ম্যাচের এই সংক্ষিপ্ত সিরিজের সবগুলো ম্যাচ মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ম্যাচ ১১ মার্চ, দ্বিতীয় ম্যাচ ১৩ মার্চ এবং তৃতীয় ম্যাচ ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। সাকিবের খেলার সম্ভাবনা থাকলে, এটি বাংলাদেশের মাটিতে তার গুরুত্বপূর্ণ ওয়ানডে সিরিজ হিসেবে গণ্য হবে।

এদিকে দেশের মাটিতে সাকিবের প্রত্যাবর্তন শুধু ক্রিকেটের জন্য নয়, সমর্থক এবং মিডিয়ার জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তিনি দেশের হয়ে খেলার ক্ষেত্রে নতুন উদ্দীপনা যোগ করবেন এবং দলের মানসিক শক্তিকে আরও দৃঢ় করবেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাকিবের অভিজ্ঞতা বিশেষ করে স্পিন এবং ব্যাটিং দুই ক্ষেত্রেই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এনে দেবে।

সাকিব আল হাসানের ঘরের মাঠে ফেরার সঙ্গে তার ফিটনেস প্রস্তুতি এবং মানসিক দৃঢ়তা জাতীয় দলের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা যোগ করবে। বিসিবির এই পদক্ষেপ প্রমাণ করছে যে, প্রশাসন এবং সরকার জাতীয় দলের জন্য সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে এবং দলের অন্যতম তারকা খেলোয়াড়কে খেলাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।

সাকিবের প্রত্যাবর্তন কেবল একটি খেলোয়াড়ের ফেরার গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য আশা, উত্তেজনা এবং শক্তি পুনঃপ্রবর্তনের প্রতীক। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগে তার দেশে ফেরা নিশ্চিত হলেও, তার সিরিজে অংশগ্রহণ চূড়ান্তভাবে নির্বাচকদের ওপর নির্ভর করছে। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা সব দিক বিবেচনা করে আশা করছেন, সাকিব আবার জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামবেন এবং তার অভিজ্ঞতা দলের জয়ে বড় অবদান রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত