প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রায় ২৩ বছর পর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে। আগামী ২০২৬–২৭ আন্তর্জাতিক মৌসুমের সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ দুটি টেস্ট ম্যাচে অংশ নেবে। প্রথম টেস্ট ১৩–১৭ আগস্ট ডারউইনে অনুষ্ঠিত হবে, আর দ্বিতীয় টেস্ট ২২–২৬ আগস্ট ম্যাকে আয়োজন করা হবে। দীর্ঘদিন পর অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে টেস্ট ক্রিকেট ফিরে আসছে, যেখানে সর্বশেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৪ সালে শ্রীলঙ্কা সফরের সময়।
ম্যাকে প্রথমবার টেস্ট আয়োজক মাঠ হওয়ায় এটি অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, ডারউইনে বাংলাদেশ সর্বশেষ খেলেছিল ২০০৩ সালে। এই সিরিজ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ যুগে দুই দলের প্রথম মুখোমুখি লড়াই হিসেবে উল্লেখযোগ্য। ২০১৭ সালে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার টেস্ট জয়ের পর দীর্ঘ সংস্করণে এই প্রথম দুই দল পরস্পরের সঙ্গে খেলছে।
ডারউইন ও উত্তর কুইন্সল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক সীমিত ওভারের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলেও টেস্ট ক্রিকেট হয়নি। আগস্টের সময় অঞ্চলটি শীতকালে গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ক্রিকেটের জন্য উপযোগী। এই সময় আয়োজন করার ফলে খেলোয়াড়রা চ্যালেঞ্জিং আবহাওয়ায় খেলার অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ জানান, ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির মধ্যেও উত্তরাঞ্চলের উন্নত অবকাঠামো এবং মাঠের প্রস্তুতির কারণে আগস্টে টেস্ট আয়োজন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই সিরিজে অংশগ্রহণ দুই দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের মান ও উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে।
বাংলাদেশ দলের বিদেশের মাটিতে পারফরম্যান্স চ্যালেঞ্জিং হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সফরে জয় পাওয়ায় দলটির আত্মবিশ্বাস উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দলের প্রধান কোচ এবং অধিনায়ক ইতোমধ্যেই সফরের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং ইউনিটের মান বাড়াতে বিশেষ অনুশীলন শিবির অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার কঠিন এবং বিপজ্জনক পিচে বাংলাদেশ খেলোয়াড়দের জন্য এটি বড় পরীক্ষার মুখ। বিশেষ করে ডারউইন ও ম্যাকের কন্ডিশনে শট নির্বাচন, বোলিং স্ট্র্যাটেজি এবং ফিটনেসের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। অভিজ্ঞ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সফর বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত খুলবে।
দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে টেস্ট ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন এবং বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করবে। ভক্তরা দীর্ঘদিন পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কার্যক্রম দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন। সিরিজের প্রতিটি ইনিংসই হবে উত্তেজনাপূর্ণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ হিসেবে দলকে আরও শক্তিশালী করবে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলাটা শুধু ক্রিকেটের প্রতিযোগিতা নয়, বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগও। সফলতা অর্জন করলে দলের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে র্যাঙ্কিং এবং বিশ্বমঞ্চে মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এই সিরিজ বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য উৎসবের মতো হবে।
বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে দলের টেস্ট খেলার অপেক্ষায় ছিলেন। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলাটা দারুণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা হয়। আগামী আগস্টে অনুষ্ঠিত এই সিরিজ বাংলাদেশ দলের জন্য নতুন আত্মবিশ্বাস, অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুনাম বৃদ্ধির বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।