প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় শহীদ সেনা দিবসের পালনে বনানী সামরিক কবরস্থানে অনুষ্ঠানের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নতুন কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না। তিনি বলেন, স্বাধীন তদন্ত কমিশন যে সুপারিশগুলো করেছে, সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে এবং বিচার নিশ্চিত করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “শহীদ পরিবারদের বলতে চাই, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে। আমরা চাই এ ধরনের নৃশংস ঘটনা ভবিষ্যতে আর কখনও না ঘটে। হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা। এই ধরনের কাজ করতে পারে শুধু তারা, যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।”
বনানী কবরস্থানে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং শহীদ পরিবারদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “আজ আমরা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সেনা শহীদ দিবস পালন করলাম। যারা বাংলাদেশে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের অবদান চিরন্তন। পিলখানা হত্যাকাণ্ড শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি বিশ্বের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি।”
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নামে তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। এ ঘটনায় সাকিল আহমেদের স্ত্রীসহ অনেক বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারান। পরের দিনও হত্যাযজ্ঞ চলে। এ হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস দিক হিসেবে বিবেচিত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্বাধীন তদন্ত কমিশন যে সুপারিশ করেছে, তা কার্যকর করা এবং নিহতদের পরিবারকে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। এর মধ্যে সংশ্লিষ্টদের দায়ী সাব্যস্ত করা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহযোগিতা করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধ করার জন্য সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা অন্তর্ভুক্ত।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী রাখা এবং এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধ করা। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকি দেয়, তাদের কোনো সহ্য করা হবে না।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কার হয় যে, নতুন কোনো কমিশন গঠন না করলেও দেশের শীর্ষ পর্যায়ে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। শহীদদের পরিবারের জন্য ন্যায় নিশ্চিত করা এবং হত্যাকারীদের শাস্তি দেওয়া সরকারের অঙ্গীকারের মূল ভিত্তি হবে।
অনুষ্ঠান চলাকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং শহীদ পরিবারের প্রতি সরকারের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আজকের দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের অবদান চিরস্থায়ী। আমরা তাদের ত্যাগকে সম্মান জানাই এবং তা প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বনানী সামরিক কবরস্থানে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে অন্যান্য উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক চর্চা চলে আসছে। স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়েছিল ২০০৯ সালের হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্তের জন্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং নতুন কোনো কমিশনের প্রয়োজন নেই।
এর মাধ্যমে সরকার শহীদ সেনাদের পরিবারকে আশ্বাস দেয় যে তাদের ক্ষতি ও কষ্টের যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে দেশের সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করার চেষ্টা প্রতিহত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত আনার চেষ্টা কোনভাবেই সফল হতে পারবে না।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় এবং নৃশংসতম অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় শহীদ পরিবার ও জাতীয় নিরাপত্তা উভয়ের জন্যই তা গুরুত্বপূর্ণ।