প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দেশীয় বাজারে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব বাংলাদেশসহ ৪০টি দেশের মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে দেশের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি ঘোষণার মাধ্যমে। একই সঙ্গে আরো ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট এলাকা বা শহর থেকে আংশিকভাবে মুরগি ও ডিম আমদানির ওপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
সৌদি ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং রোগতাত্ত্বিক হালনাগাদের ভিত্তিতে দেশগুলোর তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। কিছু নিষেধাজ্ঞা ২০০৪ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে, আবার কিছু নতুন নিষেধাজ্ঞা ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চমাত্রার এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাব এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, আজারবাইজান, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, বাংলাদেশ, তাইওয়ান, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, ইরাক, ঘানা, ফিলিস্তিন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, ক্যামেরুন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, লাওস, লিবিয়া, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য, মিসর, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নাইজার, নাইজেরিয়া, ভারত, হংকং, জাপান, বুরকিনা ফাসো, সুদান, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, কোট দিভোয়ার ও মন্টেনিগ্রো।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলজিয়াম, ভুটান, পোল্যান্ড, টোগো, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, জিম্বাবুয়ে, ফ্রান্স, ফিলিপাইনস, কানাডা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে নির্দিষ্ট রাজ্য বা শহরের ক্ষেত্রে আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এসব ক্ষেত্রে অনুমোদিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মান পূরণ করা এবং সরকারি সনদ থাকা বাধ্যতামূলক।
ফুড অথরিটির বক্তব্য অনুযায়ী, হিট-ট্রিটেড বা তাপপ্রক্রিয়াজাত মুরগি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়। তবে এসব পণ্য অবশ্যই সরকারি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে আসতে হবে এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং নিউক্যাসল রোগের ভাইরাস সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সৌদি আরবের এই নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশগুলোর মধ্যে মুরগি ও ডিম আমদানি নিয়ন্ত্রণের অংশ। বাংলাদেশে সম্প্রতি পোলট্রি খাতের নিরাপত্তা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশীয় উৎপাদকদের জন্য এটি সময়োপযোগী সতর্কতা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি জানিয়েছে, নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ ও সীমিত দেশগুলোর তালিকা ধাপে ধাপে হালনাগাদ হবে। এটি নিশ্চিত করে যে, সৌদি আরবের বাজারে নিরাপদ এবং রোগমুক্ত পণ্যের সরবরাহ বজায় থাকবে। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের পণ্যের রপ্তানিকারকরা এখন স্বাস্থ্য সনদ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রমাণপত্র সহ আমদানি নিশ্চিত করতে বাধ্য।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চমাত্রার এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাব এবং নিউক্যাসল রোগের ঝুঁকি প্রতিরোধে এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চলমান। এতে শুধু জনস্বাস্থ্যই রক্ষা হয় না, বরং দেশীয় বাজারে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত হয়। বাংলাদেশের পোলট্রি রপ্তানিকারকরা এই সিদ্ধান্তকে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সনদ এবং মান নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ শুরু করেছেন।
সৌদি আরবে মুরগি ও ডিম আমদানি নিষিদ্ধ হওয়ার ফলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। তবে স্বাস্থ্য সনদ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে অনুমোদিত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হওয়ায় বৈধ এবং নিরাপদ ব্যবসা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। দেশীয় বাজারেও এই নির্দেশনার ফলে পোলট্রি পণ্যের উৎপাদন ও নিরাপত্তা মান উন্নত করার ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।
সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশসহ ৪০টি দেশের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা, যাতে পোলট্রি খাতের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মান বজায় রাখা হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।