প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বৈরুত, লেবানন: ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ লেবাননে অবস্থিত তার দূতাবাস থেকে কয়েক ডজন কর্মীকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ‘অস্থায়ী’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফরের একজন কর্মকর্তা জানান, জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কারণে দূতাবাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দূতাবাসের মূল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, তবে কর্মীসংখ্যা সীমিত করা হয়েছে, যাতে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং মার্কিন নাগরিকদের সহায়তা প্রদানের সক্ষমতা বজায় থাকে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, “আমরা নিয়মিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করি। সবশেষ মূল্যায়নের ভিত্তিতে আমরা মনে করেছি, কেবল প্রয়োজনীয় কর্মী রেখে উপস্থিতি সীমিত করাই বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।” এটি মূলত কর্মীদের নিরাপত্তা ও দূতাবাসের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য নেওয়া সাময়িক পদক্ষেপ।
দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সকল কর্মীকে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ভ্রমণ করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যদি নিরাপত্তা ঝুঁকি বা হুমকি বৃদ্ধি পায়, তবে মিশনপ্রধানের সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
এ পদক্ষেপের পেছনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা কয়েকদিনের মধ্যে পুনরায় শুরু হবে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে।
মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মী সরানোর সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি করেছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে লেবাননীয় রাজধানী বৈরুতে মার্কিন কূটনীতিক ও কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষত লেবাননে মার্কিন দূতাবাস ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, যা সংখ্যালঘু কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।
লেবাননে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের হঠাৎ সরানো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ শুধু কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য নেয়া হলেও এটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনার প্রকাশ। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পরও সামরিক হুমকি ও সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূতাবাসের কার্যক্রম সীমিত হওয়ার কারণে লেবাননে মার্কিন নাগরিকদের সেবা ও কূটনৈতিক কার্যক্রম প্রভাবিত হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেবল প্রয়োজনীয় কর্মী উপস্থিত থাকায় দূতাবাসের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওআইসি দেশগুলোতেও পর্যবেক্ষণ শক্তিশালী করার পাশাপাশি লেবাননে যুক্তরাষ্ট্রের আগমনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এ পদক্ষেপের মধ্যে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সিকিউরিটির সূক্ষ্ম দিকগুলোও স্পষ্ট হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন, লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিপূর্ণ এবং তাই সাময়িক কর্মী সরানো এবং ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যকর উপায়। একই সঙ্গে, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি পুনঃচলমান হওয়ায় নিরাপত্তার কারণে দূতাবাসের এই প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কেড়েছে।
লেবাননে মার্কিন দূতাবাসের কর্মী সরানো এবং নিরাপত্তা পদক্ষেপ প্রয়োগের ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া, লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশও এর প্রভাব অনুভব করবে। মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের সরানো এবং কর্মসূচি সীমিত করা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
বর্তমানে লেবাননে মার্কিন দূতাবাসের সীমিত কর্মী উপস্থিতি ও কর্মসূচি কার্যক্রমের মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সেবা অব্যাহত রাখা। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পদক্ষেপের অংশ।