লখনৌতে নামাজরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালো সহপাঠীরা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ বার
লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয় মানববন্ধন ভিডিও

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি একটি মানবিক ও সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির স্থাপন করেছে হিন্দু শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো লাল বড়দারি মসজিদ কমপ্লেক্সে মুসলিম শিক্ষার্থীরা নামাজ আদায় করতে গেলে হিন্দু সহপাঠীরা মানববন্ধন করে তাদের চারপাশে অবস্থান নেন, যাতে কোনো ঝুঁকি বা বাধা সৃষ্টি না হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দৃশ্য ভাইরাল হয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং ভারতসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

লাল বড়দারি মসজিদ কমপ্লেক্সটি প্রায় ২০০ বছরের পুরনো। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মসজিদটিতে তালা লাগিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ভবনটি আগে ব্যাংক ও ক্যান্টিন হিসেবে ব্যবহার হলেও অবকাঠামোগত কারণে এটি ২০১৭-১৮ সাল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ভবনের ভেতরের মসজিদটি আরও জরাজীর্ণ এবং আংশিক নির্মাণাধীন হওয়ায় সেখানে প্রবেশ নিরাপদ নয়। এর ফলে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য গেটে তালা এবং ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।

কিন্তু মুসলিম শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, রমজান মাসে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই মসজিদ বন্ধ করা হয়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ে মসজিদে প্রবেশ করতে পারছেন না। এই ঘটনা উত্তেজনা তৈরি করলে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এনএসইউআই) ও সমাজবাদী ছাত্রসভা একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেয়। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভ চলাকালে নামাজের সময় হলে মুসলিম শিক্ষার্থীরা মসজিদের বাইরে নামাজ আদায় শুরু করেন। পুলিশের উপস্থিতি থাকায় নামাজে বাধা আসার আশঙ্কা দেখা দেয়। তখন হিন্দু শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে মুসলিম সহপাঠীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের চারপাশে অবস্থান নেন। এই মানবিক দৃশ্য ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এনএসইউআইয়ের জাতীয় সমন্বয়ক বিশাল সিং এক্সপ্রেসকে জানান, “যে গেট দিয়ে আমাদের মুসলিম ভাইরা লাল বড়দারিতে নামাজ পড়তে যেতেন, সেটি তালা মেরে সিলগালা করা হয়েছে। আমরা চাই নিরাপত্তা বজায় থাকুক, তবু শিক্ষার্থীদের নামাজে বাধা দেওয়া উচিত নয়।” তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ধর্মীয় কার্যক্রমের জন্য নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লাল বড়দারি ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় নিরাপত্তার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভাবনা মিশ্রা বলেন, “আমরা প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। ভবনটিকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।” তারা আরও জানায়, ভবনের সংরক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দুইটিই আমাদের অগ্রাধিকার।

সাম্প্রতিক এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং সাম্প্রদায়িক বন্ধুত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। হিন্দু শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন শুধুমাত্র মুসলিম সহপাঠীদের নিরাপত্তার জন্যই ছিল না, এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। সামাজিক মিডিয়ায় এই ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে দেশ-বিদেশে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সহাবস্থানের শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মানবিক সহমর্মিতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার মান বজায় রাখার প্রয়াস প্রশংসার যোগ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের উদাহরণ দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও একতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনটির সংস্কার ও সংরক্ষণের পরিকল্পনা করছে, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। প্রশাসন আশা করছে, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা কোনো ঝুঁকি ছাড়াই নামাজ আদায় করতে পারবেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদযাপিত হচ্ছে মানবিক ও সহমর্মিতার প্রশংসা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীরা যে ধরনের দায়িত্বশীল এবং সহমর্মিতার উদাহরণ দেখিয়েছে, তা ভবিষ্যতে সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত