প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রমজানের পবিত্র মাসে প্রতিটি মুসলিমের জন্য রোজা পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই মাসে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের উপর রোজা ফরজ, যা বিনা কারণে না রাখলে তা জায়েজ নয়। স্বাস্থ্যগত কারণে অনেকেই প্রশ্ন করেন, রমজানে ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হবে কি না। বিশেষ করে যাদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার মতো রোগ আছে, তারা এ বিষয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন।
ফুকাহায়ে কেরামের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইনহেলার ব্যবহারের মাধ্যমে মুখের ভেতরে ওষুধ স্প্রে করা হয়। এই ওষুধ শ্বাসনালীর ভিতরে পৌঁছে শ্বাস চলাচলকে সহজ করে, ফলে রোগীর শ্বাসনালীর সংকোচন কমে। যদিও স্প্রে গ্যাসের মতো দৃশ্যমান হয়, তবে তা মূলত তরল ওষুধ, যা মুখের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। মুখে ইনহেলার স্প্রে করার ফলে ওষুধ পেটে পৌঁছালে রোজা ভঙ্গ হয়। তাই সাধারণত মুখে স্প্রে করার পর যদি রোগী তা গিলে না খায় এবং থুতু দিয়ে ফেলে দেয়, তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না। এই নিয়ম ফুকাহায়ে কেরামের আয়াত ও প্রমাণিত হাদিসের আলোকে নির্দেশিত।
চিকিৎসকরা বলেন, শ্বাসকষ্টের রোগীরা সাধারণত সেহরিতে এক ডোজ ইনহেলার ব্যবহার করলে দিনের বাকি সময়ে অতিরিক্ত ইনহেলার প্রয়োজন হয় না। তাই রোগীরা ইনহেলার ব্যবহার করে নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন। বিশেষ ক্ষেত্রে যদি কারোর বক্ষব্যাধি মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং ইনহেলার ছাড়া ইফতার পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্ভব না হয়, তখন রোগী ইনহেলার ব্যবহার করতে পারেন। তবে পরবর্তীতে এই রোজা কাজা করতে হবে। যদি কাজা করা সম্ভব না হয়, তবে ফিদিয়া প্রদান করতে হবে।
আরও বলা হয়, রমজানে ইনহেলার ব্যবহার না করে যদি কোনো বিকল্প চিকিৎসা পাওয়া যায়, যেমন ইনজেকশন, তা ব্যবহার করা উত্তম। কারণ ইনজেকশন গ্রহণ করলে রোজা ভঙ্গ হয় না। এই পদ্ধতি অনুসারে রোগীর স্বাস্থ্য বজায় থাকে এবং রোজার অবাধ্যতা এড়ানো যায়।
ফুকাহা ও চিকিৎসাবিজ্ঞান উভয়ের পরামর্শ অনুযায়ী, রমজানে শ্বাসকষ্ট রোগীদের জন্য ইনহেলার ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে সংবেদনশীল ও নিয়ন্ত্রিতভাবে করা যেতে পারে। মুখে স্প্রে করার পর তা না গিলে থুতু দিয়ে ফেলার নিয়ম মেনে চললে রোজা ভঙ্গ হবে না। এই পদ্ধতি রোগীদের শ্বাসকষ্ট মুক্ত রাখে এবং ইসলামের নিয়মকানুনও অক্ষুণ্ণ থাকে।
অতএব রমজানে ইনহেলার ব্যবহার সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করতে বলা যায়, এটি মুখের ভেতরে গিলে খাওয়া ছাড়া রোজা ভঙ্গ করবে না। স্বাস্থ্যগত কারণে যারা নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এ নিয়ম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে তারা সঠিকভাবে রোজা রাখতে পারবে এবং শারীরিক সমস্যার কারণে কোনো হুমকির সম্মুখীন হবে না।
সেহরিতে একবার ইনহেলার নেওয়া সাধারণত দিনের বাকি সময়ের জন্য পর্যাপ্ত। তবে প্রয়োজনে বিশেষ চিকিৎসক পরামর্শ অনুযায়ী অতিরিক্ত ইনহেলার ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে রোজার অবাধ্যতা এড়ানো ও শারীরিক স্বাস্থ্যের রক্ষায় সমন্বয় করা সম্ভব। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গ্রহণযোগ্য এবং সুস্থ মুসলিমদের জন্য কার্যকর।
ফলে, রমজানে ইনহেলার ব্যবহার সম্পর্কে বিভ্রান্তি থাকা দরকার নেই। স্বাস্থ্য ও ধর্মীয় কর্তব্যের মধ্যে সঠিক সমন্বয় বজায় রেখে রোগীরা সহজে রোজা রাখতে পারেন। শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমার মতো রোগীদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়। ইনহেলার ব্যবহার সঠিক পদ্ধতিতে করলে রোজার সওয়াবও অক্ষুণ্ণ থাকে।