প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের আলোচিত ও জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি রমজান মাসে ইফতারে ভাজাপোড়া ত্যাগ করে স্বাস্থ্যকর খাবারই বেশি পছন্দ করছেন। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যক্তিজীবন, আসন্ন ঈদ ও ক্যারিয়ারের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় তিনি এ তথ্য জানান। পরীমণি বলেন, ‘বাসায় মুরুব্বীরা নেই, তাই নানুভাইকে খুব মিস করছি। রোজার দিনে নানুভাইয়ের মেমোরিগুলোই বেশি মনে পড়ে। উনার জন্য সেহরি বানানো, ইফতারের আয়োজন করা সবকিছু উনাকে ঘিরেই ছিল। এখন উনি নেই, তাই মনে হচ্ছে রোজাটা কেমন একটা ফিকে ফিকে লাগছে।’
পরীমণি ইফতারের খাবার নিয়ে বলেন, ‘আমি দুধ-কলা-ভাত বেশি পছন্দ করি। ইফতারে ভাজাপোড়া বা তেলে ভাজা গরম আলু চপ বা বেগুনি খাওয়া হয় না। শরবত ও খেজুর দিয়েই ইফতার সেরে ফেলি।’ এই খাদ্যাভ্যাস তার স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রতিফলন, যেখানে সে চর্বিযুক্ত ও অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার থেকে দূরে থাকেন। পরী মনে করেন, শরীরকে সুস্থ রাখা ও রোজা পালনকে সহজ করা জরুরি, এবং সে নিজের খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এ লক্ষ্য পূরণ করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরীমণি আরও বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে আলাদা করে কেনাকাটার প্রতি তার বেশি আগ্রহ নেই। তিনি মূলত নিজের চেয়েও ইন্ডাস্ট্রির সমৃদ্ধি ও সিনেমার সফলতা নিয়ে চিন্তিত। পরী বলেন, ‘আমাদের ইন্ডাস্ট্রি এবং আমাদের সিনেমা আমি চাই প্রত্যেকটা সিনেমাই ভালো করুক এবং ব্যবসায় সফল হোক। এখন ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটা খুবই দরকার।’ এতে বোঝা যায় যে তার ব্যক্তিগত চাহিদার চেয়ে শিল্পের উন্নয়ন ও সহকর্মীদের কল্যাণ তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পরীমণির খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা দর্শক এবং ফ্যানদের কাছে একটি প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে। স্বাস্থ্যকর খাবারের মাধ্যমে রোজা পালন ও সুস্থ জীবনধারার দিকে তার মনোযোগ অনেকেই অনুসরণযোগ্য মনে করছেন। এ ধরনের সচেতনতা শুধু তার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য রক্ষা করছে না, বরং সামাজিকভাবে যুবসমাজের জন্যও একটি উদাহরণ স্থাপন করছে।
পরীমণির কথায় স্পষ্ট, রমজান মাসে তিনি খাবারের ক্ষেত্রে সীমিততা মানেন, যা তার আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতার পরিচায়ক। ইফতারে ভারী বা তেলযুক্ত খাবার না খাওয়ার মাধ্যমে তিনি সুস্থ থাকার পাশাপাশি রোজা পালনের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও আরামদায়ক করে তুলছেন। খাবারের ক্ষেত্রে তার চয়ন ও খাদ্যাভ্যাস অনেকে অনুপ্রাণিত করছে।
এছাড়া, সংবাদ সম্মেলনে পরীমণি ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত স্মৃতির কথাও শেয়ার করেন। নানুভাইয়ের প্রতি তার ভালোবাসা ও মমতার স্মৃতি তাকে রমজানের সময়ে বিশেষভাবে প্রভাবিত করছে। এর ফলে তার ইফতার ও সেহরির অভ্যাসও অতীতের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত। তার এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দর্শক ও অনুরাগীদের কাছে মানবিক ও অন্তরঙ্গভাবে স্পর্শকাতর।
পরীমণি মনে করেন, শিল্পী হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রাখাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চান, তার সিনেমা ও সহকর্মীদের সিনেমাগুলো ব্যবসায়িকভাবে সফল হোক এবং শিল্পের মানোন্নয়ন হোক। এ ক্ষেত্রে তার খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও রোজা পালন সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অনুসরণযোগ্য হয়ে ওঠে।
পরীমণির এ ধরনের স্বাস্থ্যকর জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাস কেবল তার ব্যক্তিগত সুস্থতার জন্য নয়, বরং প্রজন্মের জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি দেখিয়েছেন, সীমিত ও স্বাস্থ্যকর খাবারও রমজান মাসের আনন্দ ও সওয়াবের সাথে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব। ইফতারের জন্য দুধ-কলা-ভাত ও খেজুরের মতো সহজ, স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে তিনি রোজা পালনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও উপভোগ্য করে তুলছেন।
পরীমণির জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাস অনুরাগীদের কাছে একটি প্রেরণার উৎস, যেখানে তারা শুধু রোজা পালন ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস না শিখে, বরং সামাজিক ও মানবিক দিক থেকেও অনুপ্রাণিত হচ্ছে। তার খোলামেলা আলোচনা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার পাশাপাশি রমজানের পবিত্রতা ও ঐতিহ্যকে বুঝতে সাহায্য করছে।
পরীমণির রমজানকালীন স্বাস্থ্যকর ইফতার ও খাদ্যাভ্যাস তার ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক সচেতনতার পরিচায়ক হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে। তার স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও সামাজিক দিকের সচেতনতা বাংলাদেশে তরুণ সমাজের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও উদাহরণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।