৫ ব্যাংক একীভূতকরণ সরকারের উদ্যোগ, অপপ্রচার অনভিপ্রেত: গভর্নর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার
৫ ব্যাংক একীভূতকরণ সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সরকারের এবং এতে দেশের প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

ড. মনসুর বলেন, ‘৫ ব্যাংক মার্জার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের বক্তব্য অনভিপ্রেত। প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষকে; অর্থাৎ আমানতকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা দিতেই ব্যাংকগুলো একত্রিত করা হয়েছে। অন্যথায় আমানত ফেরত দেওয়া সম্ভব হতো না।’ গভর্নর আরও বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে হলে নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। চাকরি করলে চাকরির বিধিবিধান মানতেই হবে। না মানলে চাকরি করা যাবে না; এটাই নিয়ম। চাকরি করবো কিন্তু প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রাখবো না, অন্য গোষ্ঠীর ইঙ্গিতে চলবো—এটি গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, কিছু কর্মকর্তা বিধিবিধান না মেনে অপপ্রচার চালিয়েছেন এবং অন্য গোষ্ঠীর ইঙ্গিতে কাজ করেছেন। এই কারণে তিন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের পর তারা ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে আরও প্রচার-অপপ্রচার চালিয়ে যান। পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে তাদের ঢাকা থেকে বাইরে বদলি করা হয়েছে। শোকজের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ড. মনসুর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর বা পরিচালক যেই থাকুক না কেন, স্টাফ ডিসিপ্লিন বজায় রাখা জরুরি। শৃঙ্খলা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। ‘আমরা একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আমরা যদি ভেঙে পড়ি, তাহলে পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়বে। তাই প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নিয়মকানুন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

গভর্নর অপপ্রচার ও ভুল ধারণা ছড়ানোর বিষয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার থেকে অর্থ সহায়তা দেয়ার বিষয়টি কেবল গভর্নরের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত; এমন প্রচারণা ‘কুচক্র’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। যদি এই উদ্যোগ ব্যর্থ হত, তাহলে ব্যাংকগুলো পূর্বের মালিকদের কাছে ফিরে যেত এবং সরকারের ৩২ হাজার কোটি টাকা আবার লুটপাটের ঝুঁকিতে পড়ত।’

পদত্যাগ প্রসঙ্গে গভর্নর স্পষ্ট করেছেন, ‘পদত্যাগ দুই সেকেন্ডের বিষয়। এটি কোনো ইস্যু নয়। আমি সার্ভিস দিতে এসেছি। প্রশাসনিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসব না।’ এছাড়া, তিনি সিএসআর বরাদ্দ নিয়ে বলেন, ‘এ সংক্রান্ত কমিটি আলাদা এবং সেখানে গভর্নর নেই। সিএসআর তহবিল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিতরণ করা হয়, এটি জমা করে রাখার বিষয় নয়।’

এর আগে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে ঢাকা থেকে বাইরে বদলি করা হয়। তারা সংবাদ সম্মেলন করে গভর্নরের কিছু সিদ্ধান্তকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দেন এবং দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানের উদ্যোগসহ একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে গভর্নর ড. মনসুর স্পষ্ট করেছেন যে, এসব বিতর্কিত বিষয় মূলত ব্যাংকের নিয়মকানুন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়াসের অংশ।

ড. মনসুরের বক্তব্যে বোঝা যায় যে, ব্যাংক একীভূতকরণ শুধুমাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করার উদ্যোগ নয়; এটি দেশের বৃহত্তম আর্থিক নিরাপত্তা ও আমানতকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি বৃহত্তর পদক্ষেপ। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ‘শৃঙ্খলা এবং নিয়মকানুন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘস্থায়ীভাবে টিকে থাকতে পারে না। বাংলাদেশ ব্যাংক যেমন একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা, তাই এখানে শৃঙ্খলা অটুট রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এই প্রেক্ষাপটে গভর্নরের মন্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, ব্যাংক একীভূতকরণ শুধু সরকারের নীতি অনুসারে গ্রহণ করা উদ্যোগ এবং এতে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রভাবের স্থান নেই। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি সঠিকভাবে পদক্ষেপ না নিই, তবে দেশের সম্পদ এবং আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকিতে পড়তে পারত। তাই সঠিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’

ড. আহসান এইচ মনসুরের বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও নিয়মকানুনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তিনি ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মীদের সততা, দায়িত্ববোধ এবং শৃঙ্খলা মেনে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি নিশ্চিত করেছেন, জনগণের সম্পদ ও সরকারের তহবিলের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখা তার প্রশাসনিক দায়িত্বের অন্যতম প্রধান অংশ।

গভর্নরের এ বক্তব্য দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, আমানতকারীর সুরক্ষা এবং সরকারি উদ্যোগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, অপপ্রচার ও ভুল তথ্য ছড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়, এবং যারা তা করছেন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত