ক্যানসার আক্রান্ত বাবার পাশে থাকতে দল ছাড়লেন রিঙ্কু

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪ বার
রিঙ্কু বাবার পাশে বিশ্বকাপ

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রিঙ্কু সিং চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলের ক্যাম্প হঠাৎই ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রিঙ্কুর বাবা বর্তমানে স্টেজ-৪ লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত এবং ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রয়েছেন। পরিবারের পাশে থাকার এই জরুরি পরিস্থিতির কারণে রিঙ্কু দলের সঙ্গে থাকা অব্যাহত রাখতে পারছেন না।

বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা সত্ত্বেও তিনি টুর্নামেন্টের বাকি অংশে দলে ফিরবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ভারতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্ট বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ক্রিকেট অঙ্গনের সবাই রিঙ্কুর পারিবারিক অবস্থার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছে এবং আশা করা হচ্ছে, কঠিন এই সময় তার পাশে দাঁড়ানো হবে।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে রিঙ্কু জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে চাপের মুহূর্তে ম্যাচ শেষ করার দক্ষতার কারণে তার গুরুত্ব বেশি। দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকলে তা টুর্নামেন্টের শেষভাগে ভারতের দলীয় সমন্বয় ও পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। এই মুহূর্তে দলের দৃষ্টি তার পারিবারিক পরিস্থিতির দিকে রয়েছে।

রিঙ্কুর অনুপস্থিতি স্পষ্টতই দলের অনুশীলন ও প্রস্তুতি প্রভাবিত করছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভারতের অনুশীলনে হার্দিক পান্ডিয়া, ইশান কিশান, আর্শদীপ সিং, তিলক ভার্মা, অভিষেক শর্মা ও সাঞ্জু স্যামসন উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু রিঙ্কু ছিলেন না। দলের কোচিং স্টাফ ও সহকর্মীরা তাকে সমর্থন জানাচ্ছেন এবং আশা করা হচ্ছে, রিঙ্কুর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে ভবিষ্যতে তিনি আবার দলে যোগ দিতে পারবেন।

রিঙ্কুর পারফরম্যান্স এ পর্যন্ত মিশ্র। বিশ্বকাপে পাঁচ ইনিংসে তিনি করেছেন মাত্র ২৪ রান, যেখানে দু’বার অপরাজিত থেকেছেন এবং সর্বোচ্চ স্কোর ১১। চলতি বছরে ১০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে রিঙ্কু আট ইনিংসে করেছেন ১১৫ রান, গড় ২৮.৭৫ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩২.১৮। তার সর্বোচ্চ স্কোর ৪৪। এ পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, তিনি মূলত ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ক্রিজে নেমে দলের জন্য দ্রুত রান সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করছেন।

ভারত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ খেলবে। সুপার এইট পর্বের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের বড় পরাজয়ের পর ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো বাকি ম্যাচ জিতে টুর্নামেন্টে টিকে থাকা এবং পাশাপাশি আশা করা যে দক্ষিণ আফ্রিকা সুপার এইট পর্বে অপরাজিত থাকবে না। এই পরিস্থিতিতে রিঙ্কুর অনুপস্থিতি দলের পরিকল্পনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রিঙ্কুর ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক দায়বদ্ধতা প্রমাণ করে যে, ক্রিকেটার হওয়া সত্ত্বেও পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পাশে থাকা তার জন্য অগ্রাধিকার। তার এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়া দুনিয়ায় প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, কঠিন সময়ে পরিবারের জন্য এমন দায়বদ্ধতা দেখানো সত্যিই মানবিক এবং প্রশংসনীয়।

ভারতের ক্রিকেট ভক্তরা রিঙ্কুর দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসার প্রত্যাশা করছেন। ক্রিকেট অঙ্গনে তার সাফল্য এবং চাপের মুহূর্তে দলের জন্য অবদানকে সামনে রেখে আশা করা হচ্ছে, বিশ্বকাপের পরবর্তী আসরে রিঙ্কু আবারও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে খেলবেন।

রিঙ্কুর এই অনুপস্থিতি এবং পারিবারিক পরিস্থিতি ক্রীড়া ও মানবিক দিক একসাথে তুলে ধরেছে। এটি দেখাচ্ছে, একজন ক্রিকেটারের জন্য পারিবারিক দায়িত্ব কখনো কম নয়। দলের ম্যানেজমেন্টও এই বিষয়টি বিবেচনা করে ইতিবাচক সমর্থন জানিয়েছেন।

এই মুহূর্তে রিঙ্কুর সিদ্ধান্ত ভারতীয় ক্রিকেট দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলেও, তার মানবিক দায়বদ্ধতা সকলের কাছে শিক্ষণীয় উদাহরণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। টুর্নামেন্টের শেষপর্বে তার দলের মধ্যে পুনরায় অন্তর্ভুক্তি এবং পারফরম্যান্স ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য দারুণ প্রত্যাশার বিষয় হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত