জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, অর্থ সহায়তা নিশ্চিত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬ বার
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে সচিবালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ফল প্রকাশ করেন। এ বছর মোট ৪৬ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে, যার মধ্যে ১৪ হাজার ৭০০ জন মেধাবৃত্তি এবং ৩১ হাজার ৫০০ জন সাধারণ বৃত্তি লাভ করেছেন।

মেধাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসিক ৪৫০ টাকা বৃত্তি পাবেন এবং এককালীন বাৎসরিক অনুদান হিসেবে ৫৬০ টাকা পাবেন। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসিক ৩০০ টাকা এবং এককালীন বাৎসরিক অনুদান ৩৫০ টাকা হিসেবে পাবেন। এই অর্থ সাহায্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ায় বিশেষ সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষামন্ত্রী ফল প্রকাশকালে শিক্ষার্থীদের উজ্জীবিত করতে বলেন, “বৃত্তি শুধু অর্থ নয়, এটি প্রেরণা ও স্বীকৃতির প্রতীক। শিক্ষার্থীরা মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।”

ফলাফল জানা যাবে মোবাইলের মাধ্যমে। শিক্ষার্থীরা তাদের বোর্ডের নাম, রোল নম্বর এবং সাল টাইপ করে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালেই ফিরতি মেসেজে ফলাফল দেখতে পারবেন। এছাড়া অনলাইন মাধ্যমেও ফলাফল দেখা সম্ভব। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর এবং সাল (২০২৬) প্রদান করলেই ফলাফল জানা যাবে।

ফলাফল দেখার জন্য শিক্ষার্থীদের ফোন বা কম্পিউটারের ব্রাউজার ব্যবহার করতে হবে। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর নোটিশ বোর্ড বা মেনু থেকে ‘Scholarship Result’ বা ‘বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল’ অপশন ক্লিক করলে সংশ্লিষ্ট জেলার বা উপজেলার বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পিডিএফ ফাইল পাওয়া যাবে। ফাইলটি ডাউনলোড করে রোল নম্বর মিলিয়ে নিজের ফলাফল নিশ্চিত করা যাবে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষার মান যাচাইয়ের পাশাপাশি তাদের শিক্ষাগত আগ্রহ ও প্রতিভা উদ্দীপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বৃত্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

এ বছরও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রতিটি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তি অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই প্রতিটি মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী তাদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে। এই বৃত্তি সেই স্বপ্নের একটি প্রথম পদক্ষেপ।”

পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা সাধারণত অংক, বিজ্ঞান, বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ভালো ফলাফল করেছে। মেধাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাদের বিদ্যালয় ও উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছে। শিক্ষা অধিদফতর আশা করছে, এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের শিক্ষাজীবনে উৎসাহ যোগাবে এবং তারা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে।

এই বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সাথে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। অভিভাবকরা সন্তানের এই সাফল্যকে উৎসাহ প্রদান ও প্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা বিভাগ ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন।

শিক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল দেখে আগামীর শিক্ষাজীবনের পরিকল্পনা নির্ধারণ করবেন। একাধারে বৃত্তি অর্থনৈতিক সহায়তা ও মানসিক প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষামন্ত্রী সব শিক্ষার্থীকে অনুপ্রাণিত করতে বলেন, “সফলতা অর্জনের জন্য মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের বিকল্প নেই। বৃত্তি শুধু শুরু; এগিয়ে চলার প্রেরণা।”

ফলে অংশগ্রহণকারীরা এই বৃত্তি অর্জনের মাধ্যমে নিজেরা অনুপ্রাণিত হবেন এবং শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে আরও উন্নতি সাধন করবেন। দেশব্যাপী শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার জন্যও এই বৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত