এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কারণে গ্যাস সরবরাহ হ্রাস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার
এলএনজি টার্মিনাল গ্যাস সরবরাহ

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। এফএসআরইউ টার্মিনালের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বেসরকারি এবং সরকারি ব্যবহৃত অনেক এলাকায় স্বল্প চাপের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পেট্রোবাংলা বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মহেশখালীস্থ এফএসআরইউ থেকে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত আরএলএনজি সরবরাহ বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সীমিত থাকবে।

পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ জনগণকে এ সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, বর্তমানে টার্মিনালে কারিগরি কাজ চলছে, যা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ফলে কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে।

এফএসআরইউ বা ফ্লোটিং স্টোরেজ এবং রিজ্যাকিশন ইউনিট হলো দেশের এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এক্সিলারেট এনার্জি কোম্পানি পরিচালিত এই টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ দেশের শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং গৃহস্থালির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে চলমান মেরামতের কাজের মূল উদ্দেশ্য হলো টার্মিনালের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা বজায় রাখা, যান্ত্রিক ত্রুটি নিরসন করা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে গ্যাসের সরবরাহে সাময়িক স্বল্প চাপের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বড় শহর ও শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ হ্রাসের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কিছুটা কার্যক্রমে ধীরগতি লক্ষ্য করা যেতে পারে। পেট্রোবাংলা জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং সময়মতো মেরামত কাজ শেষ করার মাধ্যমে স্বাভাবিক সরবরাহ পুনঃস্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

দেশের বিভিন্ন গৃহস্থালি ব্যবহারকারীর জন্যও গ্যাস সরবরাহ সীমিত হতে পারে। রান্না ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজের জন্য জনগণকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পখাতের জন্যও প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়। এফএসআরইউ টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামত কার্যক্রম সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং দেশের প্রতিটি এলাকার গ্যাসের চাপ পূর্বের মতো পুনঃস্থাপিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি দিক থেকে এই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ জরুরি। কারণ টার্মিনাল এবং সংযোগকারী লাইনগুলো নিয়মিত মেরামত না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। বর্তমানে যে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে তা ন্যূনতম এবং জনগণকে নিরাপদ ও স্থিতিশীল গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এটি আবশ্যিক।

এই পরিস্থিতিতে পেট্রোবাংলা ও এক্সিলারেট এনার্জি কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ করছে যাতে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ক্ষতি না ঘটে। নাগরিকদেরকে গ্যাস ব্যবহার সংক্রান্ত সচেতনতা ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। মেরামত কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে গৃহস্থালির ব্যবহারকারীরা গ্যাস সংরক্ষণ এবং বিকল্প রান্নার পদ্ধতি ব্যবহার করলে সুবিধা হবে।

দেশের শিল্প ও গৃহস্থালি উভয় ক্ষেত্রে স্থিতিশীল এবং নিরাপদ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি মেরামত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে যে কোনো দুর্ঘটনা এবং সরবরাহ বিঘ্ন এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও শিল্প উৎপাদনে বাধা না আসা।

বর্তমানে চলমান এই মেরামত কাজ জনগণকে স্বল্প সময়ের জন্য অসুবিধার মধ্যে ফেলে দিলেও, দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা নিশ্চিত করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা টার্মিনালের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা এবং দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত