প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনকে আদালতের এজলাসে ভাঙচুর ও বিচারকার্যে বাধা দেয়ার অভিযোগে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আটক করেছে পুলিশ। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর আদালতপাড়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং এজলাসে সাময়িকভাবে বিচার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদালতের এজলাসে কিছু আইনজীবী হট্টগোল শুরু করলে চেয়ার ও টেবিল উল্টে ফেলা হয় এবং বিচারকরা চেঁচামেচির কারণে এজলাস ত্যাগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সভাপতি লিংকনকে আটক করে।
এ ঘটনায় আদালত চত্বরে আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা আদালত বর্জন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন। তারা দাবি করেন, আদালতে বিচার কার্যক্রমে অনিয়ম ও অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে এবং প্রতিবাদ হিসেবে তারা কার্যক্রম স্থগিত রাখছেন।
ঘটনার পেছনে প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুসের জামিন। গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। জামিনের পর আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মহানগর আদালত বর্জন করা হয়। আদালতের সংশ্লিষ্ট বিচারকের অপসারণ এবং জামিন বাতিলের দাবি তোলা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রবেশ করে কিছু আইনজীবী চিৎকার-চেঁচামেচি করেন এবং বিচার কার্যক্রমে বাধা দেন। এতে চেয়ার ও টেবিল উল্টে ফেলা হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আদালতের এজলাসে ভাঙচুরের অভিযোগের ভিত্তিতে লিংকনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিচার কার্যক্রমে অমেধ্য রোধ করাই পুলিশের লক্ষ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আদালতের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বরিশাল আদালতে এ ধরনের হট্টগোলের ঘটনা আইন শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনজীবী সমাজ ও আদালত কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেছে।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আটক হওয়া প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টিকোণ থেকে জানা যায়, বিচার কার্যক্রমে বাধা দেওয়া ও এজলাসে হিংসা আইনগতভাবে গৃহীত কোনো দায়বদ্ধতার বাইরে নয়। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে নজর রাখছে।
বর্তমানে বরিশাল আদালতে শান্তি ফেরানোর জন্য পুলিশ এবং আইনজীবী সমিতির মধ্যে সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে। আদালতের কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিকভাবে শুরু করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে, আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
প্রতিক্রিয়ায় জেলা আইনজীবী সমিতি জানিয়েছেন, সভাপতি লিংকনের গ্রেফতারের বিষয়টি তারা অগ্রহণযোগ্য মনে করছে এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে সমস্যার সমাধান চাইবে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আদালতে শান্তি ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।
উল্লেখ্য, বরিশাল জেলা আদালতের এজলাসে হট্টগোলের ঘটনা স্থানীয়ভাবে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ নাগরিক, আইনজীবী এবং আদালতকর্মীরা সবাই শান্তি এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আদালতের মর্যাদা রক্ষা করতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।