রাশিয়ার দাবি: যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র দিচ্ছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার
রাশিয়ার দাবি: যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র দিচ্ছে

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাশিয়া দাবী করেছে, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ইউক্রেনকে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করছে। মস্কো হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এমন পদক্ষেপ নিলে তারা পাল্টা পরমাণু হামলার পথেও যেতে পারে। তবে ইউক্রেন এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন হিসেবে নাকচ করেছে এবং কিয়েভের সঙ্গে মিলিতভাবে লন্ডন ও প্যারিসও রাশিয়ার বক্তব্য অস্বীকার করেছে।

রাশিয়ার এই দাবী আসে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে পঞ্চবার্ষিকীর দিন, গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) যখন রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) জানিয়েছে, ‘লন্ডন ও প্যারিস কিয়েভকে পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ রাশিয়ার মতে, এর মাধ্যমে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলো ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে রাশিয়ার ওপর বিজয় অর্জন করতে চায়।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা টাস এই গোয়েন্দা তথ্য সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করে। একই সঙ্গে ক্রেমলিনপন্থি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক অ্যাকাউন্টও এই খবর ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রকাশিত পোস্টগুলিতে বলা হয়, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের কথিত পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র দিলে তা সরাসরি যুদ্ধরত একটি দেশের হাতে পরমাণু অস্ত্র তুলে দেওয়া হবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এর জবাবে রাশিয়া ‘নন-স্ট্র্যাটেজিক’ পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।

তবে কিয়েভের প্রতিক্রিয়া ছিল স্পষ্টভাবে ‘ভিত্তিহীন’। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিওর্হি তিখি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘মিথ্যা বলার জন্য পরিচিত রুশ কর্মকর্তারা আবারও পুরোনো ‘ডার্টি বোমা’ গল্প বানানোর চেষ্টা করছে।’ কিয়েভের ভাষায়, এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি সরানোর একটি প্রচেষ্টা।

ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একইভাবে রাশিয়ার দাবী নাকচ করেছে। ফরাসি দফতরের সঙ্গে যুক্ত এক ভুয়া তথ্য মোকাবিলার এক্স অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রেঞ্চ রেসপন্স’ পোস্টে জানিয়েছে, ‘তিন দিনের যুদ্ধের পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার এই সময়ে রাশিয়া চায় জনগণ ফরাসি ও ব্রিটিশ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকুক।’ পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, পারমাণবিক হুমকি দিয়ে ইউক্রেনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনকে আড়াল করা যাবে না, বিশেষ করে ব্যর্থ ‘তিন দিনের যুদ্ধ’-এর চতুর্থ বার্ষিকীর প্রেক্ষিতে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। তবে স্কাই নিউজ জানিয়েছে, ব্রিটিশ সরকার আগেই জানিয়েছিল, এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের এই স্পষ্ট অস্বীকারের পরও রাশিয়া বারবার এ ধরনের ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই দাবি কেবল তথ্য যুদ্ধের একটি অংশ। ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তথ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা সৃষ্টি করতে সক্ষম, যা ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলো এবং ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।

এ ঘটনায় মানবিক দিকও নজর কাড়ছে। পরমাণু অস্ত্রের হুমকি বা গুজব সাধারণ মানুষ এবং সামরিক বাহিনীর জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ইউক্রেনের নাগরিকরা ইতিমধ্যেই পাঁচ বছরের যুদ্ধের কারণে সীমাহীন উদ্বেগ এবং আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি বারবার পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং যুদ্ধ মোকাবিলায় সংযমের আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো, পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ ভিত্তিহীন বা সত্য হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তবে রাশিয়ার এই ধরণের দাবি সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া মহাদেশীয় স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। ইউক্রেনের সামরিক ও কূটনৈতিক নেতারা ইতিমধ্যেই বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এই ধরনের গুজবের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংক্ষেপে বলা যায়, রাশিয়ার অভিযোগের প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট যে, এই বিতর্কে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের কোনো বাস্তব পদক্ষেপের প্রমাণ নেই। ইউক্রেন, লন্ডন ও প্যারিস একযোগে দাবি করেছে, রাশিয়ার বক্তব্য কল্পনার ভিত্তিতে তৈরি, এবং এটি শুধুমাত্র মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও তথ্য যুদ্ধের একটি অংশ। যদিও পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ, তবু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শান্তি, সংযম এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিতে থাকে।

রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র হুমকি এবং ইউক্রেনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন লুকানোর প্রচেষ্টা, সংঘাতকালীন বিশ্ব রাজনীতির জটিলতা তুলে ধরে। এ ধরনের দফায়-দফায় দাবি এবং অস্বীকার, তথ্য-যুদ্ধের মহড়া এবং কূটনৈতিক চাপে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখে। তাই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা প্রতিনিয়ত সতর্ক এবং সমন্বিত পর্যবেক্ষণ বজায় রাখার পরামর্শ দেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত