প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দুপুর দেড়টায় সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রশাসক, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী নবনিযুক্ত প্রশাসকের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এই অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সিলেট নগরীকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও মশামুক্ত শহরে পরিণত করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। নতুন দায়িত্বে এসে আমি চাই সবাইকে নিয়ে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ নগরী গড়ে তোলা হোক।” প্রশাসক আরও বলেন, নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য নতুন মন্ত্রিসভার মধ্যে সিলেটের দুই মন্ত্রীর সহযোগিতা গ্রহণ করবেন। শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং শ্রম ও জনশক্তি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সহায়তায় সিলেটবাসীর সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সকালে সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান নবনিযুক্ত প্রশাসক। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর দুপুরে নগরভবনে পৌঁছে, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার ও সচিব বিশ্বজিত দেব ফুল দিয়ে নবনিযুক্ত প্রশাসককে স্বাগত জানান।
প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নগর উন্নয়নে নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চান। তিনি বলেন, “নগরবাসীর প্রতিটি অভিযোগ ও সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করব। সিলেটকে নাগরিকবান্ধব শহরে পরিণত করতে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করা হবে।” নবনিযুক্ত প্রশাসক স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা, বিভিন্ন কমিটি এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, যানজটমুক্ত ও মশামুক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।
নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশাসক বলেন, নগরীর যেকোনো সমস্যা সমাধানে শহরের নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, প্রযুক্তি ও তথ্যভিত্তিক সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, নাগরিক অভিযোগের দ্রুত সমাধান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর গঠনে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার এবং সচিব বিশ্বজিত দেব ছাড়াও বিভিন্ন কর্মকর্তা, সমাজকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নবনিযুক্ত প্রশাসককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং সিলেটের উন্নয়নে তার নেতৃত্বের প্রতি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন প্রশাসক নাগরিক সেবা, নগর পরিচালনা ও উন্নয়নের জন্য সময়মতো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। এছাড়া নগরীতে যেকোনো জরুরি সমস্যা বা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান কর্মকাণ্ড আরও কার্যকর করতে প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে তিনি সিলেটকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নাগরিকবান্ধব ও নিরাপদ শহরে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। তার পরিকল্পনায় নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, মশামুক্ত করা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সেবা সহজলভ্য করা এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাগরিক অভিযোগের দ্রুত সমাধান অন্তর্ভুক্ত। নবনিযুক্ত প্রশাসক শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সরকার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং নাগরিক সংগঠনগুলোর সমন্বয় বৃদ্ধিতে কাজ করবেন।
প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর দায়িত্ব গ্রহণকে স্থানীয় সাংবাদিক ও নাগরিকরা ইতিবাচকভাবে অভিহিত করেছেন। তারা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন, তার নেতৃত্বে সিলেটের নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবা আরও উন্নত হবে। নতুন প্রশাসক শহরের প্রতিটি ইউনিটের কার্যক্রম মনিটর করবেন এবং প্রতিদিন নগরের সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ নতুন আশা এবং উদ্দীপনা নিয়ে এসেছে নগরবাসীর মধ্যে। প্রশাসক তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে শহরকে পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে তার নির্দেশনায় বিভিন্ন প্রকল্প এবং সেবা কার্যক্রমে মনোনিবেশ শুরু করেছেন।