প্রধানমন্ত্রী পরিয়ে দিলেন আইজিপিকে র‍্যাংক ব্যাজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার
প্রধানমন্ত্রী পরিয়ে দিলেন আইজিপিকে র‍্যাংক ব্যাজ

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ পুলিশের নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরকে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ কার্যালয়ে র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এই আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

এর আগে, গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (পুলিশ-১ শাখা) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। দেশের সর্বোচ্চ পুলিশ পদে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বে আসেন।

মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তার কর্মজীবন রাজনীতির প্রভাবে ঘিরে ছিল নানা ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রথমবার চাকরিচ্যুত হন তিনি। পরবর্তীতে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়, যা প্রমাণ করে তার কর্মজীবনে রাজনৈতিক চাপের প্রভাবও ছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসপি পদমর্যাদায় তার চাকরি পুনর্বহাল হয়। পুনর্বহালের পর তিনি সুপার নিউমারিতে ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পান। এই দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া তার ধৈর্য, পেশাগত নিষ্ঠা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার সাক্ষ্য দেয়।

র‍্যাংক ব্যাজ পরানোর সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইজিপিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দক্ষতার মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবেন।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীও নবনিযুক্ত আইজিপির প্রতি শুভেচ্ছা ও সমর্থন ব্যক্ত করেন।

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে বলেন, “আমি দেশের জনগণের সেবা ও পুলিশ বাহিনীর কার্যকারিতা উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করব। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের আস্থা অর্জন আমার প্রধান দায়িত্ব। এছাড়া পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সব স্তরের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদানের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দেশকে শান্তি ও নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের ওপর অর্পিত। সমাজে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধ দমনই দেশের নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশের মূল ভিত্তি। আইজিপি হিসেবে তার লক্ষ্য, পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা এবং নৈতিক মান বজায় রেখে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা।

নবনিযুক্ত আইজিপির দায়িত্ব গ্রহণে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীও নতুন উদ্দীপনা পেয়েছে। বিভিন্ন ইউনিট ও বিভাগগুলোর কর্মকর্তারা আইজিপির নির্দেশনায় দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে প্রস্তুত রয়েছেন। আইজিপি হিসেবে তিনি প্রাথমিকভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো, যানজট নিয়ন্ত্রণ, শহর ও গ্রামাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং অপরাধ দমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন।

আইজিপির ব্যক্তিগত জীবন এবং কর্মজীবনের উত্থান-পতনের কাহিনী পুলিশ বাহিনীতে প্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বাধা ও চাকরিচ্যুতির পর পুনর্বহাল এবং পদোন্নতির এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, তিনি কঠোর পরিস্থিতিতেও দায়িত্ব পালন ও পেশাগত নিষ্ঠা বজায় রাখতে সক্ষম।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের নেতৃত্বে পুলিশের নৈতিক মান, দক্ষতা এবং জনসেবার মান বৃদ্ধি পাবে। তার অভিজ্ঞতা পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়ন এবং জনসাধারণের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কার্যক্রম মনিটরিং, অপরাধ তদন্তের মান উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি তার প্রাথমিক অগ্রাধিকার হবে।

আইজিপির দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তিনি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও দৃঢ় ও জনগণমুখী করার জন্য নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন। জনসেবার মাধ্যমে পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রণালীকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য থাকবে তার।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইজিপির দায়িত্ব গ্রহণ দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মো. আলী হোসেন ফকিরের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ও প্রমত্ত ভূমিকা পালন করবে। সরকারের সহায়তা ও জনগণের সমর্থনের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দৃঢ় হবে এবং পুলিশ বাহিনী জনসেবার মান উন্নয়নে আরও সক্রিয় হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত