প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাককে সাধারণত আমরা শুধুমাত্র তীব্র বুকব্যথার সঙ্গে যুক্ত করি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্ট অ্যাটাক সবসময় বুকের তীব্র ব্যথার মাধ্যমে শুরু হয় না। অনেক ক্ষেত্রে শরীরের অন্যান্য অংশে বিভিন্ন অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যা উপেক্ষা করলে বিপদ ডেকে আনতে পারে। হঠাৎ ক্লান্তি, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা বা হজমের সমস্যা—এসবই হতে পারে হৃদরোগের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত।
হঠাৎ ও অকারণ অতিরিক্ত ক্লান্তি হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। অনেকেই দৈনন্দিন কাজকর্মের মধ্যে প্রচণ্ড অবসাদ অনুভব করলে তা তুচ্ছভাবে এড়িয়ে দেন। ২০২১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অকারণ তীব্র ক্লান্তি এবং অবসাদ হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিক কাজকর্মেও যদি অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দেয়, তা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
শ্বাসকষ্ট বা বুকের চাপও হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য লক্ষণ। হাঁটা, সিঁড়ি ওঠা বা এমনকি শুয়ে থাকা অবস্থায়ও যদি বুকের মধ্যে চাপ বা অস্বস্তি অনুভূত হয়, তা অবহেলা করা উচিত নয়। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুকের অস্বাভাবিক চাপ বা অস্বস্তি—এসব সংকেত হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের উপসর্গগুলো অনেক সময় ছোট ও সাধারণ সমস্যা মনে হয়, তাই মানুষ এগুলোকে উপেক্ষা করে বসে।
শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা ছড়ানোও হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের ইঙ্গিত দিতে পারে। হৃদযন্ত্রের সমস্যা শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি চোয়াল, বাঁ হাত, কাঁধ, গলা বা পিঠের ওপরের অংশেও ব্যথা তৈরি করতে পারে। এই ধরনের ব্যথা অনেক সময় মানুষ গ্যাস বা হজমের সমস্যার সঙ্গে মিশিয়ে ভুল বুঝে বসে। চিকিৎসকদের মতে, স্নায়ুর মাধ্যমে এই ব্যথা শরীরের অন্যান্য অংশে অনুভূত হয়, তাই হঠাৎ ব্যথা বা অস্বস্তি উপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে।
হজমের সমস্যা এবং পেটফাঁপা অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই ধরনের উপসর্গকে অনেক সময় সাধারণ অ্যাসিডিটি বা অম্বলের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত ঘাম, অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং হজমের গোলমাল একসঙ্গে দেখা দিলে তা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শের বিষয়। শুধুমাত্র অম্বলের ওষুধ খেয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না।
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে জীবনধারায় কিছু পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলা, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস, মানসিক চাপ কমানো এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা—এসব বিষয় হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা এবং দ্রুত পদক্ষেপই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। সন্দেহজনক কোনও উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
হৃদরোগের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করলে তা অপ্রত্যাশিত ও প্রাণঘাতী পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে। অনেক সময় মানুষ তীব্র বুকব্যথা ছাড়া অন্যান্য লক্ষণকে অবহেলা করে। সেজন্য শরীরের ক্ষুদ্র ও অস্বাভাবিক পরিবর্তনগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা নিলে জটিল পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সুস্থ খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক ব্যায়াম এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে সহায়ক। অবসাদ, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ব্যথা এবং হজমের সমস্যা—এসব উপসর্গের প্রতি যত্নশীল হওয়া দরকার। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যস্ততার মধ্যে এই লক্ষণগুলো প্রাথমিকভাবে উপেক্ষা হয়, তবে সচেতনতা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রাণ রক্ষা করতে পারে।
প্রধান কথা হলো, হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সবসময় তীব্র নয়। শরীরের ক্ষুদ্র সংকেতগুলো উপেক্ষা না করে সতর্ক থাকা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং জীবনধারায় পরিবর্তন আনা জরুরি। সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তাই হঠাৎ ক্লান্তি, বুকে চাপ, বিভিন্ন স্থানে ব্যথা বা হজমের সমস্যা দেখা দিলে এড়িয়ে না গিয়ে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।