সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচাতে কঠিন সমীকরণে পাকিস্তান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৩ বার
পাকিস্তানের সেমিফাইনাল আশা টিকে

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর আসরগুলোর একটি আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচ মানেই নতুন উত্তেজনা, নতুন হিসাব আর সমর্থকদের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেওয়া নাটকীয়তা। চলতি আসরের সুপার এইট পর্বে ঠিক এমনই এক জটিল সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। সাম্প্রতিক ম্যাচে অল্প ব্যবধানে হারের ফলে তাদের সেমিফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে, তবে আশা পুরোপুরি নিভে যায়নি। তাই শেষ ম্যাচ ঘিরে দলটির ভেতরে যেমন তীব্র প্রস্তুতি, তেমনি সমর্থকদের মাঝেও তৈরি হয়েছে শ্বাসরুদ্ধকর প্রতীক্ষা।

গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল দুই উইকেটের জয় তুলে নিয়ে নিজেদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ম্যাচটি ছিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দোলাচলে ভরা। পাকিস্তানের বোলাররা লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষদিকে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা চাপ সামলে জয় ছিনিয়ে নেয়। এই পরাজয় পাকিস্তানের জন্য শুধু একটি ম্যাচ হার নয়, বরং পুরো প্রতিযোগিতায় তাদের অবস্থানকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। খেলোয়াড়দের চোখে হতাশার ছাপ থাকলেও দলীয় শিবিরে বিশ্বাস রয়েছে—শেষ সুযোগ কাজে লাগানো গেলে এখনও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।

সুপার এইটের গ্রুপ দুইয়ের বর্তমান পয়েন্ট তালিকা পরিস্থিতির জটিলতা স্পষ্ট করে। দুই ম্যাচে দুই জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইংল্যান্ড। এক ম্যাচে এক পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল। পাকিস্তান দুই ম্যাচে এক পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে, আর এক ম্যাচে কোনো পয়েন্ট না পেয়ে চতুর্থ স্থানে আছে শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দল। এই অবস্থায় শেষ ম্যাচের ফলাফল পুরো গ্রুপের চিত্র পাল্টে দিতে পারে।

পাকিস্তানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করা। ক্যান্ডির ঐতিহাসিক পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম–এ অনুষ্ঠিত হবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া এই লড়াই শুধু দুই দলের জন্য নয়, বরং পুরো গ্রুপের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। পাকিস্তান জিতলে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে তিন, যা তাদের শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখবে। কিন্তু সেই জয়ের পাশাপাশি তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের ফলের দিকেও।

বর্তমান হিসাব অনুযায়ী পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক পরিস্থিতি হলো নিউজিল্যান্ড যদি বাকি দুই ম্যাচেই হেরে যায়। সে ক্ষেত্রে পাকিস্তান নিজেদের ম্যাচ জিতলে পয়েন্ট তালিকায় ইংল্যান্ড থাকবে ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে এবং পাকিস্তান তিন পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে যাবে। তখন রানরেটের জটিলতা ছাড়াই তারা সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে। তবে ক্রিকেটের বাস্তবতা হলো, এমন নিখুঁত সমীকরণ সচরাচর মেলে না।

আরও সম্ভাব্য দৃশ্য হলো নিউজিল্যান্ড যদি একটি ম্যাচ জেতে এবং অন্যটিতে হারে। তখন পাকিস্তান শ্রীলঙ্কাকে হারালে দুই দলের পয়েন্ট হবে সমান তিন। সেই অবস্থায় নির্ধারণী বিষয় হবে রানরেট। পাকিস্তানের বর্তমান রানরেট নেতিবাচক হওয়ায় তাদের শুধু জয় পেলেই চলবে না, বড় ব্যবধানে জিততে হবে। প্রতিটি রান, প্রতিটি ওভার তখন হয়ে উঠবে সেমিফাইনালের লড়াইয়ের অংশ।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার কাছে হারলে পাকিস্তানের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে। সেই পরিস্থিতিতে তাদের টুর্নামেন্ট অভিযান থেমে যাবে সুপার এইটেই। তাই এই ম্যাচ তাদের জন্য বাঁচা–মরার লড়াইয়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা, সঠিক কৌশল এবং চাপের মধ্যে স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাই নির্ধারণ করবে তারা শেষ সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে কি না।

আবহাওয়াও এখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। যদি ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়, তাহলে দুই দলই এক পয়েন্ট করে পাবে এবং পাকিস্তানের মোট পয়েন্ট দাঁড়াবে দুই। একই সময়ে কলম্বো–এ শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের ম্যাচও যদি পরিত্যক্ত হয় এবং পরে নিউজিল্যান্ড ইংল্যান্ডের কাছে হারে, তাহলে তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান দুই। তখন রানরেটের হিসাবেই ঠিক হবে কে শেষ চারে উঠবে। অর্থাৎ আবহাওয়ার অনিশ্চয়তাও পাকিস্তানের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের ধারাবাহিকতা। দলটি কখনও দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে, আবার কখনও অপ্রত্যাশিত ভুলে ম্যাচ হাতছাড়া করছে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বৈশিষ্ট্যই হলো অল্প সময়ে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে। তাই শেষ ম্যাচে তাদের পরিকল্পনা হবে আক্রমণাত্মক কিন্তু হিসেবি ক্রিকেট খেলা, যাতে জয়ের পাশাপাশি রানরেটও বাড়ে।

দলের ব্যাটিং লাইনআপে প্রতিভার অভাব নেই, তবে মাঝের সারির স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। বোলিং বিভাগেও শেষ ওভারগুলিতে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা জরুরি। দলীয় ব্যবস্থাপনা সূত্রে জানা গেছে, এই দুটি দিক নিয়ে বিশেষ অনুশীলন চলছে। কারণ শুধু জয় পেলেই হবে না, এমন জয় দরকার যা তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

ক্রিকেট ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, চাপের মুহূর্তে পাকিস্তান দল নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দেয়। অতীতের সেই স্মৃতি সমর্থকদের আশাবাদী করে রেখেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের বার্তাও স্পষ্ট—শেষ বল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এই বিশ্বাসই হয়তো দলটিকে নতুন শক্তি দেবে।

সব মিলিয়ে সুপার এইটের শেষ ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য ভাগ্য নির্ধারণী এক অধ্যায়। জয় মানে আশা বেঁচে থাকা, হার মানে স্বপ্নের সমাপ্তি। তাই বিশ্ব ক্রিকেটের দৃষ্টি এখন সেই লড়াইয়ের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে পাকিস্তানের সেমিফাইনালের পথ খুলবে, নাকি বন্ধ হয়ে যাবে চিরতরে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত