যুদ্ধ এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৭ বার
ইরান যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি এখন হাতের নাগালে, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৃহস্পতিবার জেনেভায় নির্ধারিত বৈঠকের আগে আরাগচি বলেন, “একটি ঐতিহাসিক চুক্তি করার পথে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তবে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করছে, আমেরিকা কতটা কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”

আরাগচি আরও বলেন, “ইরান কোনো পরিস্থিতিতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে আমাদের জনগণের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির সুবিধা ভোগের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।” এই মন্তব্যগুলো প্রকাশ করেছে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক, যারা পশ্চিমা দেশগুলোকে আশ্বস্ত করতে চাচ্ছেন যে তেহরান শান্তিপূর্ণ লক্ষ্যেই পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে ওমান। মাসকাট আশা প্রকাশ করেছে, এই বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে এবং চূড়ান্ত চুক্তি স্থাপনের পথ সুগম হবে। ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন আব্বাস আরাগচি, আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উটকভ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার।

সংযুক্ত বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই তৃতীয় দফার আলোচনা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পূর্ববর্তী দুই দফার আলোচনা বিভিন্ন কারণে স্থগিত হয়েছিল। কিন্তু চলমান বৈঠককে যুদ্ধ এড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি উভয় পক্ষ সমঝোতা করতে পারে, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও শক্তি ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে।

আরাগচি এই বৈঠকের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করছি, অন্যদিকে নিশ্চিত করছি যে আমাদের নাগরিকরা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এটি আমাদের জনগণের অধিকার।” তিনি বলেন, ইরান চুক্তি করতে ইচ্ছুক, কিন্তু তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কতটা কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, সেটিই চূড়ান্ত সমাধান নির্ধারণ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্টিভ উটকভ ও জারেড কুশনার বৈঠকে অংশ নেবেন। তারা গত কয়েক সপ্তাহে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন এবং বৈঠকে কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার চেষ্টা করবেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। কিন্তু এবার তৃতীয় দফার আলোচনার ফলাফলের দিকে সব দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, চূড়ান্ত চুক্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সীমা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ, আর্থিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ। এই সব বিষয়ের সঠিক সমন্বয়েই চূড়ান্ত সমঝোতা সম্ভব।

এই বৈঠকের আগে আরাগচি সাংবাদিকদের বলেন, “তেহরান শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায়। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধের ঝুঁকি কমানো।” তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে এ বিষয়ে কার্যকর কূটনীতি গ্রহণ করতে হবে।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, চুক্তি সম্পন্ন হলে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং শক্তি ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল ও গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী ওমানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার নতুন পথ খুঁজবেন। তেহরান এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সঙ্কেত দেওয়া হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা অর্জন এখনো নির্ধারিত নয়। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশাবাদী যে, শান্তিপূর্ণ সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ইরানের কূটনীতিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তি শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর যুক্তরাষ্ট্রও আগের সামরিক হুমকি কমিয়ে কূটনীতি ও কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে মনোনিবেশ করতে চাইছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, তৃতীয় দফার আলোচনার ফলাফল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মানচিত্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।

সংক্ষেপে বলা যায়, ইরানের পক্ষে আব্বাস আরাগচির এই মন্তব্য এবং জেনেভায় বৈঠকের উদ্যোগ যুদ্ধ এড়াতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত চুক্তি এখনো নির্ধারিত নয়, তবু উভয় পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং তা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত