প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ এক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পশ্চিমা দেশগুলো যদি ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র বা পারমাণবিক প্রযুক্তি সরবরাহ করে, তবে রাশিয়া চলমান যুদ্ধে অকৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে। মেদভেদেভ ম্যাক্স ম্যাসেঞ্জার অ্যাপে দেওয়া বার্তায় বলেন, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউক্রেনের কাছে পারমাণবিক প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে যুদ্ধের পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হতে পারে এবং এতে রাশিয়া তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হবে।
মেদভেদেভ আরও বলেন, “পশ্চিমা দেশগুলোর এ ধরনের পদক্ষেপ সরাসরি যুদ্ধরত দেশে পারমাণবিক অস্ত্র হস্তান্তরের সমতুল্য। এ অবস্থায় রাশিয়া তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো অস্ত্র ব্যবহার করার অধিকার সংরক্ষণ করে, যার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রও রয়েছে। এছাড়া অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।”
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ইউরোপে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ করা অত্যন্ত জরুরি। পেসকভ বলেন, ইউক্রেনের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র বা প্রযুক্তি হস্তান্তর করা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে বৈশ্বিক উদ্যোগেরও পরোক্ষ ব্যাহত হবে।
রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা এসভিআর তাদের রিপোর্টে অভিযোগ করেছে, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহে আগ্রহী। এসভিআর দাবি করেছে, এই পদক্ষেপ কিয়েভের শান্তি আলোচনায় অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং ইউরোপের স্থিতিশীলতার জন্য গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে এবং ইউক্রেনের দিক থেকেও এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার হুঁশিয়ারি যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করতে পারে এবং এটি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সমীকরণকে জটিল করে তুলবে।
মেদভেদেভের হুঁশিয়ারি শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তার দিক থেকেও তা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকরা মনে করেন, পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহের সম্ভাবনা নতুনভাবে যুদ্ধের গতি ও কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে। রাশিয়া তাদের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব রক্ষার জন্য কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে পারে। এতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান মেদভেদেভের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সরাসরি পারমাণবিক সহায়তা যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের হাতে দিলে এটি শুধুমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করবে না, বরং এটি নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জও তৈরি করবে।
যুদ্ধবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাশিয়ার হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক আইন ও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি অনুসারে এক গুরুতর সংকেত। যদি ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহ করা হয়, তা শুধু ইউরোপ নয়, বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কূটনৈতিক সমাধান ও উত্তেজনা হ্রাসে গুরুত্ব দিতে হবে।
তবে যুদ্ধরত অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাবনা নতুন করে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণকে জটিল করে তুলতে পারে। মেদভেদেভ স্পষ্ট করে বলেছেন, রাশিয়া তাদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, যা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারেরও সম্ভাবনা বহন করে। এই হুঁশিয়ারি পশ্চিমা দেশগুলোকে সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণকারীরা মনে করছেন, ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র বা প্রযুক্তি সরবরাহের সম্ভাবনা যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এ কারণে কূটনৈতিক সমাধান এবং উত্তেজনা হ্রাসে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ কেন্দ্রীয় হয়ে উঠেছে।
সংক্ষেপে বলা যায়, মেদভেদেভের হুঁশিয়ারি শুধু রাশিয়ার কৌশলগত অবস্থান নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সচেতন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র বা প্রযুক্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে যেকোনো পদক্ষেপের পরিণতি সম্ভাব্যভাবে গুরুতর, যা বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।