তারেক রহমান: শিক্ষা ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩১ বার
একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে দেশের উন্নয়ন ও প্রগতির জন্য শিক্ষা ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তির গুরুত্বকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে জাতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, শিল্প ও সংস্কৃতির রাজনীতিকরণ কখনোই সভ্য দেশের পরিচয় হতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি শুধু জ্ঞান বৃদ্ধি করে না, এটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি শিশুকে আধুনিক শিক্ষায় সম্পৃক্ত করা, তরুণদেরকে দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলা এবং গবেষণায় আগ্রহী নতুন প্রজন্ম তৈরি করা।”

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ তুলে দেন। এ বছর একুশে পদক পেয়েছেন দেশের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলা শিল্পী ও অধ্যাপক মো. আবদুস সাত্তার, স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), নাট্যশিল্পী ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিক শফিক রেহমান, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যশিল্পী তেজস হালদার যশ এবং নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদ। এছাড়া ব্যান্ড দল ওয়ারফেজকেও সংগীত ক্ষেত্রে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শিল্প ও সংস্কৃতির গুরুত্বও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “দেশের শিল্প, সাহিত্য, সংগীত ও নাট্যকলার মতো সৃজনশীল ক্ষেত্রে মানুষের অবদানকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের স্বীকৃতি শুধুমাত্র পুরস্কার নয়, এটি নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎসও। তবে মনে রাখতে হবে, শিল্প ও সংস্কৃতিকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে।”

এতে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথি এবং পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে আমরা আমাদের জাতির চরিত্র গড়ে তুলতে পারি। গবেষণা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা দেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে সহায়ক। এজন্য সরকার সর্বাত্মকভাবে শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করছে।”

একুশে পদক বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এই পদক চালু করা হয়। প্রতিটি বছর দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়। মনোনীত ব্যক্তিরা সাধারণত সাহিত্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, শিল্পকলা, সংগীত, নাট্যকলা, ভাস্কর্য ও নৃত্যকলার ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য এই সম্মাননা পান।

নীতিমালা অনুযায়ী, পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এককালীন নগদ চার লাখ টাকাসহ ৩৫ গ্রাম ওজনের স্বর্ণপদক, রেপ্লিকা ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে আশা প্রকাশ করেন, পদকপ্রাপ্তরা তাদের প্রতিভা ও দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করবেন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে উদাহরণ স্থাপন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় একটি বিশেষ বার্তা ছিল—শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রসার এবং শিল্প-সাহিত্যকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই দুই ক্ষেত্রই দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, বাংলাদেশকে একটি শিক্ষিত, প্রযুক্তি সচেতন ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ জাতিতে রূপান্তরিত করা।

এ বছর একুশে পদক অনুষ্ঠানের তাৎপর্যও বিশেষভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে পদক তুলে দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের যুবসমাজকে প্রেরণা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে দেশের সেবা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এভাবেই একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান শুধু সম্মাননা প্রদান নয়, বরং দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার বিকাশকে উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত