বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের যোগদান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২২ বার
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমান বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করেছেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছে তিনি শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ডেপুটি গভর্নরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান।

গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে মোস্তাকুর রহমান বলেন, “আগে কাজ, পরে কথা হবে।” এ মন্তব্য তার পেশাদার ও কার্যক্রম-কেন্দ্রিক মনোভাবের প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। তিনি চার বছরের জন্য এই দায়িত্বে নিযুক্ত হয়েছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং খাতে নতুন গতি আসার আশা করা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি আদেশে আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদটি দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি মুদ্রানীতি নির্ধারণ, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ব্যাংকিং খাতের তদারকি সহ বিভিন্ন নীতি নির্ধারণের দায়িত্বে যুক্ত।

নিয়োগকৃত মোস্তাকুর রহমান একজন প্রখ্যাত ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিতে দক্ষ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব নেওয়া দেশের অর্থনৈতিক খাতের জন্য নতুন দিকনির্দেশনার প্রতিশ্রুতি বহন করছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাংকের নীতিমালা আরও উদ্ভাবনী ও কার্যকরী হবে, যা দেশের বাণিজ্যিক ও আর্থিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মোস্তাকুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনাড়ম্বরভাবে স্বাগত জানান। গভর্নর হিসেবে তিনি প্রথম কার্যদিবসে বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিয়ে দেশের আর্থিক বাজার ও মুদ্রানীতি সম্পর্কে অগ্রাধিকার ভিত্তিক আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন হবে তাঁর প্রশাসনিক নীতির মূল লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোস্তাকুর রহমানের দায়িত্ব নেওয়া শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, এটি দেশের আর্থিক ও বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে তাঁর সিদ্ধান্তগুলি সরাসরি দেশের মুদ্রানীতি, সুদের হার, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকিং সেক্টরে প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের আর্থিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানের দায়িত্ব নেওয়া অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের ব্যাংকিং খাতের আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণ এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো নতুন গভর্নরের প্রধান লক্ষ্য হবে।

তাছাড়া, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে মোস্তাকুর রহমানের অভিজ্ঞতা দেশকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মানচিত্রে আরও দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে আসবে। তাঁর নেতৃত্বে নতুন মুদ্রানীতি ও আর্থিক নীতি গ্রহণে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই মোস্তাকুর রহমান কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বিভাগীয় বৈঠক এবং আর্থিক নীতিমালা পর্যবেক্ষণ শুরু করেছেন। দেশের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোও তাঁর পদক্ষেপ ও নীতিমালার দিকে নজর রাখছে। এটি দেশের আর্থিক খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

এভাবে মোস্তাকুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য নতুন অধ্যায় সূচিত করেছে। তার নেতৃত্বে দেশের আর্থিক নীতি, ব্যাংকিং খাতের দক্ষতা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও মজবুত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত