যুক্তরাষ্ট্রের নৌযানে কিউবার অভিযানে নিহত ৪

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৫ বার
যুক্তরাষ্ট্র কিউবার নৌ অভিযান নিহত

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কিউবার উত্তর উপকূলের কায়ো ফ্যালকোনেস অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিবন্ধিত একটি স্পিডবোটের অভিযানে চারজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। বুধবার কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানে ব্যবহৃত স্পিডবোটটি কিউবার জলসীমায় প্রবেশ করে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালায়। এ ঘটনায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। খবর নিশ্চিত করেছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

ঘটনাস্থল কিউবার উত্তর উপকূলের কায়ো ফ্যালকোনেস থেকে প্রায় এক মাইল উত্তর-পূর্বে। কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নৌকাটির নিবন্ধন নম্বর তাদের কাছে রয়েছে। তবে নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কিউবার কর্তৃপক্ষের দাবি, নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবানরা, যারা কিউবায় অনুপ্রবেশ করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছিল। এই অভিযানের ফলে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং অভিযুক্তদের মধ্যে গুলিবিনিময় সংঘটিত হয়, যার ফলে নিহত ও আহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই অভিযান কোনো মার্কিন সরকারি কর্মকাণ্ড ছিল না। তিনি বলেন, “নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে নিজস্বভাবে তদন্ত করবে।” মার্কো রুবিও আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো পক্ষ এই অভিযানে সরাসরি জড়িত ছিল না এবং তারা ঘটনার যথাযথ তদন্তের জন্য কিউবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

এই ঘটনায় কিউবার স্থানীয় জনগণ আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, গুলিবিনিময়ের সময় অঞ্চলটি একপ্রকার যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। আহতরা কিউবার স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলেও নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায় গভীর শোকগ্রস্ত।

বিশ্বব্যাপী বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন করে উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক সঙ্কটাপন্ন। এর মধ্যেই এমন অভিযান কিউবারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করছে।

অভিযানের ফলে কিউবার সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক চাপও বৃদ্ধি পেতে পারে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী স্পষ্ট করেছে, ভবিষ্যতে এমন ধরনের অনুপ্রবেশ প্রতিহত করার জন্য তারা আরও কড়াকড়ি নেবে। কিউবার সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, তারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন বা প্রশ্রয় দেবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবানরা যদি এই ঘটনায় জড়িত হয়ে থাকে, তবে তা দু’দেশের মধ্যে নতুনভাবে উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সমুদ্রসীমা আইন সম্পর্কেও প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। বিশেষ করে স্পিডবোট ও সশস্ত্র হামলার বিষয়টি সমুদ্র নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত বিতর্ক উস্কে দিতে পারে।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কিউবার নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ এই ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও এই ধরনের ঘটনায় মার্কিন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এদিকে, কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ঘটনার ন্যায্য তদন্ত নিশ্চিত করবে এবং সীমান্ত সুরক্ষা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য সহযোগিতা করবে।

ঘটনাটি কিউবার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা, নৌ পরিবহন ও আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত একটি নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা কিউবারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত