সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি ‘জুলাই–অগাস্ট হত্যাকাণ্ড’ মামলায় জামিনে মুক্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৪ বার
সাবেক এমপি বদির জামিন

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

কক্সবাজারের টেকনাফ‑উখিয়া এলাকা জুড়ে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কক্সবাজার‑৪ (উখিয়া‑টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে আদালতের বাইরে মুক্ত হয়েছেন। এই সময় আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন এবং তা বৃহস্পতিবার দুপুরে কার্যকর হয়েছে।

বদি দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন বিভিন্ন অভিযোগের কারণে এবং ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট তাকে র‍্যাব চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। র‍্যাব জানিয়েছিল, ওই সময় তাকে টেকনাফের হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার করা হয় এবং তখন থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসছিল।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বদি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে কক্সবাজার‑৪ আসন থেকে সংসদে নির্বাচিত হন। এরপর তার রাজনৈতিক জীবনে নানা বিতর্ক এবং অভিযোগ দেখা দেয়, বিশেষ করে মাদক ব্যবসা ও ইয়াবা ব্যবসায় ‘গডফাদার’ নামে খ্যাতিতে ওঠানামার কারণে। এই বিতর্কের কারণে পরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তার পরিবর্তে তার স্ত্রী শাহীন আক্তারকে মনোনয়ন দেয়।

জামিন পাওয়ার আগে বদি দীর্ঘ সময় বিভিন্ন মামলা ও অনুসন্ধান‑পর্বের মুখোমুখি ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে তার গ্রেপ্তারির সময় মামলাটির তদন্ত ও পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। তার আইনজীবীরা নিয়মিত জামিনের আবেদন করছিলেন। বিচারপতি তার দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকা, মামলার প্রকৃতি এবং প্রমাণাদি বিবেচনা করে হাইকোর্টে জামিন অনুমোদন করেন।

হাইকোর্টের এই আদেশে সমাজের বিভিন্ন মহলে বিভিন্ন মত প্রকাশ পায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের বড় মামলায় জামিন পাওয়া আদালতের স্বাধীনতা ও আইনি সিদ্ধান্তের প্রমাণ। কিছু আইন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন উচ্চ আদালতের আদেশ সব সময় ন্যায়বিচারের মানদণ্ড অনুযায়ী হওয়া উচিত এবং এটি নিশ্চিত করতে তদন্ত ও সময়মতো শোনার গুরুত্ব অপরিসীম।

সামাজিক মাধ্যমে এবং রাজনৈতিক মহলে এই জামিন নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। কেউ আদালতের সিদ্ধান্তকে আইনি স্বাধীনতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বলছেন গ্রেপ্তার ও তদন্তের ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া শক্তিশালীভাবে সম্পন্ন হওয়া উচিত।

জুলাই‑অগাস্ট ২০২৪ সালটি দেশের জন্য একটি অস্থির সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। সারাদেশে হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থা ওই ঘটনাকে ‘জুলাই গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ব্যাপক তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে সাবেক এমপি বদি নামে একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জামিনকে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং আইনি দিক থেকে জটিল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আদালত সব সময় প্রমাণ, যুক্তি ও মানদণ্ড অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। মামলায় অগ্রগতি এবং আসামির কার্যক্রম নিয়মিত যাচাই‑বাছাই করা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু মামলায় প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষ্য সংক্রান্ত অনেক তথ্য রয়েছে, এগুলো নিরপেক্ষভাবে বিচার হওয়া প্রয়োজন। উচ্চ আদালতের জামিন আদেশ প্রমাণ করে যে আইনের চোখে প্রত্যেক আসামির ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।

এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে মামলার শোনানি, যুক্তি প্রমাণ ও আইনি সিদ্ধান্তগুলো যথাযথভাবে আলোচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত