চাঁদা না দেওয়ায় মাদ্রাসার কাজ বন্ধ বিএনপি নেতার অভিযোগে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৫ বার
মাদ্রাসা নির্মাণ কাজ চাঁদা

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে দুই লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ার কারণে একটি মাদ্রাসার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঠিকাদার এস এম বদিউজ্জামান মোরেলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী এলাকায় ফাজিল মাদ্রাসার চার তলা বিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। নির্মাণ কাজটি মেসার্স ওসমান আলী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করছে। ঠিকাদারের দাবি, নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকেই নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমান এবং তার নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তি দুই লাখ টাকার চাঁদা দাবি করেন।

ঠিকাদার এস এম বদিউজ্জামান বলেন, “দরপত্রের সকল নিয়ম মেনে আমরা কাজ করছি। বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান ও তার লোকজন চাঁদা চেয়েছিল। আমরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা আমাদের লোকজনকে হুমকি দিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।” তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের কাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের আচরণ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

অভিযোগটি প্রতিফলিত হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ জনগণ এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন। ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমান চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “কাজ বন্ধ হওয়ার কারণ চাঁদা নয়, বরং অনিয়ম ও সুষ্ঠু তদারকি না থাকার জন্যই কাজ স্থগিত হয়েছে।” তিনি বলেন, যদি প্রকল্পের কাজ ঠিকভাবে না হয়, তাহলে তাদের দায়িত্ব হচ্ছে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী জানান, “মাদ্রাসার নির্মাণ কাজ সকল নিয়ম মেনে চলছে। আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে শুনেছি স্থানীয় কিছু লোকজন চাঁদা চাওয়ার কারণে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা আশা করি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং কাজ পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।”

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, এই নির্মাণ প্রকল্পটি এলাকার শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন ভবনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুব্যবস্থা এবং পাঠ্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। তবে রাজনৈতিক চাপ এবং অনিয়মের অভিযোগ প্রকল্পের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করছে। ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন যে, রাজনৈতিক প্রভাব ও চাঁদা দাবির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন ধরনের ঘটনা শুধু মোরেলগঞ্জ নয়, বরং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন প্রকল্পে রাজনৈতিক প্রভাবের প্রমাণ দেয়। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বৃদ্ধি পায় এবং সরকারের উন্নয়ন নীতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রতিবেশীরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ বৃদ্ধি করার পরিবর্তে রাজনৈতিক চাপ ও চাঁদা দাবির কারণে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হওয়া সমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমানোর এবং স্থানীয় জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করার সম্ভাবনা রাখে।

পুলিশ ও প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করছে এবং জানিয়েছেন যে, যথাযথ প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় সমাজ ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা হবে। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রকল্পের কাজ দ্রুত পুনরায় শুরু করা যাতে শিক্ষার্থীরা সুবিধা নিতে পারে এবং এলাকার উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়।

এই ঘটনা দেশের শিক্ষা খাতে রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থনৈতিক দাবির প্রভাব নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে। সম্প্রদায়, শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন যে, প্রশাসন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে শিক্ষার মান ও উন্নয়ন প্রকল্পের সুষ্ঠু কার্যক্রম নিশ্চিত করা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত