অনুমতি ছাড়া মেট্রোরেলে ছবি-ভিডিও নিষিদ্ধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৬ বার
মেট্রোরেল স্টেশনে ছবি ভিডিও নিষেধ

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর অত্যাধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান সংযোজন মেট্রোরেলকে ঘিরে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটি জানিয়েছে, মেট্রোরেল স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো ধরনের ভিডিওগ্রাফি, ফটোগ্রাফি, লাইভ স্ট্রিমিং কিংবা কনটেন্ট তৈরি করা যাবে না। নির্দেশনা অমান্য করলে প্রযোজ্য আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং বুধবার তা সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মেট্রো স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, কনকোর্স, প্রবেশ ও বাহির পথ, ট্রেনের অভ্যন্তর এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে অনুমতি ছাড়া শর্ট ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব বা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার, বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ফটোগ্রাফি, শুটিং কিংবা লাইভ সম্প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

মেট্রোরেল চালুর পর থেকেই রাজধানীবাসীর কাছে এটি শুধু একটি পরিবহন মাধ্যম নয়, বরং আধুনিক নগর জীবনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী স্টেশনে যাতায়াত করছেন, কেউ অফিসগামী, কেউ শিক্ষার্থী, কেউবা ঘুরতে বের হওয়া পরিবার। এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই স্মার্টফোনে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন কনটেন্ট নির্মাতা ও ইউটিউবাররা মেট্রোরেলকে ঘিরে নানা ধরনের ভিডিও তৈরি করছেন, যা ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তাও পাচ্ছে।

তবে ডিএমটিসিএলের মতে, অনিয়ন্ত্রিত কনটেন্ট নির্মাণ নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। স্টেশনের ভেতরে অতিরিক্ত ভিড়, ক্যামেরা সেটআপ বা লাইভ সম্প্রচারের কারণে প্ল্যাটফর্মে শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত অংশের ছবি বা ভিডিও অননুমোদিতভাবে প্রচার হলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, মেট্রোরেলের আওতাধীন এলাকায় বাণিজ্যিক শুটিং, ভিডিও বা ফটোগ্রাফি করতে চাইলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে কাজ পরিচালনা করা যাবে। অর্থাৎ পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত ও অনুমতিনির্ভর কার্যক্রমই এখানে মূল লক্ষ্য।

এ বিষয়ে পরিবহন বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে মেট্রো বা রেলস্টেশনে ভিডিওগ্রাফি ও ফটোগ্রাফির ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সুরক্ষার প্রশ্নে কর্তৃপক্ষ সচেতন থাকে। বাংলাদেশে মেট্রোরেল একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হওয়ায় এর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এ ধরনের পদক্ষেপ অস্বাভাবিক নয়।

তবে সামাজিক মাধ্যমে কিছু যাত্রী ও কনটেন্ট নির্মাতা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, ব্যক্তিগতভাবে স্মৃতিচারণের জন্য তোলা ছবি বা ভিডিও পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হলে সাধারণ যাত্রীদের জন্য তা কিছুটা কঠোর হতে পারে। আবার অনেকে বলছেন, অনুমতির প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ হলে বাণিজ্যিক বা প্রফেশনাল শুটিং নিয়ন্ত্রিতভাবে চালু রাখা সম্ভব।

ডিএমটিসিএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যই তাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। মেট্রোরেল একটি উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো। এখানে প্রতিটি স্টেশন ও ট্রেন নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। তাই অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করলে তা আইনগত জটিলতায় পড়তে পারে।

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় মেট্রোরেলের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। যানজট নিরসন, সময় সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প বড় ভূমিকা রাখছে। এই বাস্তবতায় এর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সরকারি স্থাপনায় ছবি বা ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের নীতিমালা প্রযোজ্য হয়। যদি আগেই সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা থাকে এবং তা সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়, তবে নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া বৈধ। তবে একই সঙ্গে তারা মনে করেন, সাধারণ যাত্রীদের সচেতন করতে স্পষ্ট সাইনবোর্ড, ঘোষণা ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা প্রয়োজন।

মেট্রোরেল যাত্রীরা এখন থেকে স্টেশন এলাকায় ছবি বা ভিডিও ধারণের আগে সতর্ক থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যারা বাণিজ্যিক বা পেশাগত কারণে শুটিং করতে চান, তাদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করে অনুমতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে ডিএমটিসিএলের এই নতুন নির্দেশনা রাজধানীর মেট্রোরেল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা জোরদারের একটি অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী ও কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়লে এবং অনুমতি প্রক্রিয়া সহজ হলে এই নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত