প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘোষণা করেছেন তার নতুন রাজনৈতিক প্রচারণা কর্মসূচি ‘ঢাকা আজাদি’। গতকাল বুধবার তিনি নিজ ভেরিফায়েড Facebook অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ কর্মসূচির সূচনা জানান। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “আসছে আগামী প্রচারণা: ঢাকা আজাদি।”
পাটওয়ারী তার প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন, যা শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, তাদের সমস্যার কথা শোনা, সমাজ গুছিয়ে তোলা এবং দুর্নীতি, অন্যায় ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে লড়াই করা। তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকার মানুষ জেগে উঠবে এবং রাজধানী হবে একটি স্বচ্ছ, সচেতন ও কার্যকর শাসন ব্যবস্থার প্রতীক। তিনি বলেন, “জেগে উঠবে ঢাকা। Dhaka will be Azad. বাংলাদেশের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য।”
এ প্রচারণায় ‘#DhakaAzadi’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে এবং জনগণকে ‘Azadi Jatra – আজাদি যাত্রা’ অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাটওয়ারীর বক্তব্যে প্রকাশিত হয়েছে যে, এই যাত্রার মূল লক্ষ্য হলো রাজধানীর নাগরিকদের সচেতন করা এবং স্থানীয় সমস্যাগুলোর সমাধান ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা। তিনি মনে করেন, জনগণকে কেন্দ্র করে পরিচালিত যেকোনো উদ্যোগই প্রকৃত গণতান্ত্রিক শক্তিকে শক্তিশালী করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘ঢাকা আজাদি’ কর্মসূচি মূলত স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতা ও প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসংযোগ বাড়িয়ে সামাজিক ও প্রশাসনিক সমস্যা চিহ্নিত করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কর্মসূচি রাজনৈতিক মাঠে নতুন শক্তি ও প্রজন্মের ভোটারদের আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন যে, কর্মসূচির সময় নাগরিকদের কথা শোনা এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, “শহরের প্রতিটি কোণে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করব। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকব। আমাদের লক্ষ্য জনগণকে পাশে নিয়ে শহরকে একটি উদাহরণী নগরী হিসেবে গড়ে তোলা।”
এ কর্মসূচির মাধ্যমে পাটওয়ারী মূলত একটি নতুন রাজনৈতিক বাণী প্রচার করতে চাইছেন, যা নাগরিকদের সচেতনতা, অংশগ্রহণমূলক শাসন ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। এই প্রচারণা জনসাধারণের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার এবং স্বচ্ছ নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শহরের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনও এই কর্মসূচির প্রতি মনোযোগী। তাদের মতে, নগর ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে জনসাধারণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের সচেতনতামূলক প্রচারণা প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে এবং দুর্নীতি ও অন্যায় নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
পাটওয়ারী এ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। কর্মসূচিতে নাগরিকদের অংশগ্রহণ, মতামত সংগ্রহ এবং সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিক সমাজের শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
তথ্য অনুযায়ী, ‘ঢাকা আজাদি’ কর্মসূচি শুধু রাজনৈতিক প্রচারণা নয়; এটি ঢাকার নাগরিকদের জন্য একটি শিক্ষামূলক এবং সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এ প্রচারণা নাগরিকদের মধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে এগিয়ে আসতে এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও কার্যকর রাখতে সহায়ক হবে।
নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়াও ইতিবাচক। অনেক সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়াবে, সেবা গ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধানে সহায়ক হবে। বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে এটি নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে।
সবমিলিয়ে, ‘ঢাকা আজাদি’ কর্মসূচি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নতুন রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির এবং স্বচ্ছ প্রশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হবে। কর্মসূচি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দেওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।