প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের অন্যতম প্রধান শিকার তার দেশ ইরান। বৃহস্পতিবার প্রাদেশিক সফরের সময় তিনি জানান, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে দেশটিতে অসংখ্য সরকারি কর্মকর্তা সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন। এ কথা জানিয়েছেন তিনি আল জাজিরার প্রতিবেদনের মাধ্যমে। পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, “যদি বাস্তবতাকে ন্যায্যভাবে দেখা হয়, তাহলে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে ইরান কেবল সন্ত্রাসবাদের বিরোধীই নয়, বরং এই অঞ্চল এবং বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসের অন্যতম প্রধান শিকার।”
পেজেশকিয়ানের মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বিশ্বে “সন্ত্রাসবাদের বৃহত্তম পৃষ্ঠপোষক” হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট, তিনি বলেন, এই ধরনের অভিযোগ বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ইরান বরং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শিকার।
ইরান বিশেষভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিরোধী দেশ হিসেবেও পরিচিত। পেজেশকিয়ান জানান, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি নিষিদ্ধ করেছেন। ২০০০ সালের গোড়ার দিকে খামেনি একটি ফতোয়া বা ধর্মীয় ডিক্রির মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি নিষিদ্ধ করেন। পেজেশকিয়ান বলেন, “এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।”
বিশ্লেষকরা মনে করেন, পেজেশকিয়ানের বক্তব্য ইরানের আন্তর্জাতিক নীতি ও নিরাপত্তা কৌশলের অংশ। দেশটি চিরকালই সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়ে এসেছে এবং একাধিক হামলায় সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকরা প্রাণ হারিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের মন্তব্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এই দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে যে ইরান ন্যায়সঙ্গতভাবে সন্ত্রাসবাদের শিকার।
পেজেশকিয়ানের ভাষণে প্রতিফলিত হয় যে, ইরানের অবস্থান কেবল প্রতিরক্ষা নয়, বরং দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী। তিনি বলেন, দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সন্ত্রাসের হুমকি মোকাবিলা করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পেজেশকিয়ানের মন্তব্য আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। মার্কিন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইরান তার নিজস্ব ন্যায্য অবস্থান তুলে ধরছে, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বুঝতে পারে যে ইরান কেবল সন্ত্রাসের শিকার নয়, বরং নীতিগতভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অটল।
ইরানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কৌশল, অন্তর্দেশীয় সন্ত্রাস প্রতিরোধ, এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সন্ত্রাস মোকাবিলার উদ্যোগ এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। পেজেশকিয়ানের ভাষণে স্পষ্ট হয়েছে, দেশটির অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নীতি মিলিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি ইরানের বাস্তব অবস্থা মূল্যায়ন করে, তাহলে দেখা যাবে ইরান কেবল আঞ্চলিক সন্ত্রাসের শিকার নয়, বরং বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ ধরনের পরিস্থিতি ইরানের নিরাপত্তা নীতি এবং কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণ নানা ধরনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এ কারণে ইরান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত অবস্থান ও কৌশল গ্রহণ করছে। পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে এটিই স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
পেজেশকিয়ানের মন্তব্য আন্তর্জাতিক নীতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় ইরান তার ভূ-রাজনৈতিক এবং সন্ত্রাস বিরোধী নীতিতে অটল। তিনি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিরুদ্ধে ফতোয়া এবং ধর্মীয় নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেছেন, যা ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সবমিলিয়ে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইরানের অবস্থান, নিরাপত্তা নীতি ও সন্ত্রাসবাদের শিকার হওয়ার বাস্তবতা বোঝাতে গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইরানের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক কৌশল এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিরোধিতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করে।