গুণীজনদের সম্মানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১২ বার
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকার অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুণীজনদের হাতে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫’ তুলে দেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে এই প্রতিযোগিতামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের সাহিত্য, গবেষণা ও বিজ্ঞান ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে এ বছর মোট ৯ জন গুণীজনকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। কবিতার ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়েছেন মোহন রায়হান। তার রচনায় জীবন, সমাজ এবং মানুষের অন্তর্দৃষ্টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে একটি নতুন ধারায়। কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিসের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যিনি সমসাময়িক সমাজের বাস্তবতা এবং নারীর জীবনযাত্রার নানা দিককে সাহিত্যের মাধ্যমে আলোকে এনেছেন। প্রবন্ধ ও গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক সমাজ, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর চিন্তাশীল লেখা দিয়ে পাঠককে চিন্তাজাগিয়ে তুলেছেন। শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ তার লেখা গল্প ও কবিতার মাধ্যমে ছোটদের কল্পনা ও নৈতিক বোধকে প্রভাবিত করেছেন। অনুবাদ ক্ষেত্রে আলী আহমদ বাংলা সাহিত্যে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসার মাধ্যমে পাঠককে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিয়েছেন। গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান যথাক্রমে ইতিহাস, ভাষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর গবেষণা নতুন জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করেছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং স্মৃতিচারণে মঈদুল হাসান অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখার জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরস্কার প্রদানকালে বলেন, “বাংলা সাহিত্যের উৎকর্ষতা ও সমৃদ্ধি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতিফলন। যারা আজ এই পুরস্কার পাচ্ছেন, তারা আমাদের সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অবদান প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা।”

অনুষ্ঠানকালে উপস্থিত সাহিত্যিক, গবেষক এবং বিশিষ্ট অতিথিরা একে বাংলা সাহিত্যের অমর স্মারক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার শুধু প্রতিযোগিতার স্বীকৃতি নয়, বরং এটি দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করার এক ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। এই পুরস্কারের মাধ্যমে প্রতিটি ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের কাজকে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং নতুন প্রজন্মকে সাহিত্যে উদ্বুদ্ধ করার জন্য উদ্দীপনা যোগায়।

বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পুরস্কারপ্রাপ্তদের কাজের মধ্যে গবেষণার গভীরতা, ভাষার সৌন্দর্য, নৈতিক শিক্ষা এবং সমসাময়িক বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা, বিশেষ করে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য ও অনুবাদ ক্ষেত্রে এই পুরস্কার গ্রহণের মাধ্যমে দেশের সাহিত্যিক পরিসর আরও প্রসারিত হবে। এছাড়া বিজ্ঞান ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষণার ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রাপ্তদের অবদান সমাজে শিক্ষণীয় ও উদ্দীপনামূলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বইমেলার পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর এক আবহ তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যে জানান, দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাদেরকে স্বীকৃতি দেওয়া সবসময় জাতীয় অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয়। তিনি আরও বলেন, “বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার শুধু একটি সম্মান নয়, বরং এটি দেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও সাহিত্যচর্চার প্রতি একটি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি।”

সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এই ধরনের পুরস্কার দেশের সাংস্কৃতিক মান, শিক্ষার স্তর এবং সমাজে জ্ঞানচর্চার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। পুরস্কার প্রাপ্ত গুণীজনদের কাজ তরুণ লেখক ও গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির সুনাম বৃদ্ধি করতে এ ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ বছর ৯ জনকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে, যা পুরস্কারের বৈচিত্র্য ও বিস্তৃত পরিসরের প্রমাণ। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, অনুবাদ, গবেষণা, বিজ্ঞান এবং মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে তাঁদের অবদানকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এটি নতুন প্রজন্মকে সাহিত্যে ও জ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করবে।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের ইতিহাসে এটি আরেকটি স্মরণীয় মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রী নিজে হাতে গুণীজনদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ায় অনুষ্ঠানটি আরও গুরুত্বপূর্ন হয়ে ওঠে। এটি দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সবমিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫’ গ্রহণের অনুষ্ঠান কেবল একটি সম্মান প্রদানের অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি দেশের সাহিত্য, গবেষণা, শিশু সাহিত্য, অনুবাদ, বিজ্ঞান ও মুক্তিযুদ্ধচর্চার জন্য নতুন উদ্দীপনা এবং গুণীজনদের কৃতিত্বকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত