প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সারা দেশে ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত দুইটার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন। তার পোস্টে বলা হয়েছে, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটছে নৃশংস ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনা, যার প্রেক্ষিতে ডাকসু শুক্রবার বাদ জুমা কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করছে।
নরসিংদীতে ঘটানো একটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশের মানুষের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ষণের বিচার চাওয়ার কারণে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তার বাবার কাছ থেকে অপহরণ করা হয় এবং হত্যা করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেতে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সামাজিক ও শিক্ষার্থীবৃন্দের মধ্যে অগ্নিমাত্রা তৈরি হয়েছে।
ডাকসু মনে করিয়ে দিয়েছে, দেশের যুবসমাজ সহ সকল নাগরিক ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে একযোগে সাড়া দিতে হবে। তারা বলছে, ধর্ষণ ও সহিংসতা এখন শুধু একটি স্থানীয় বা পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার বিষয়। ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে তারা সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি ও কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাবে যাতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর এবং বাইরের সাধারণ মানুষসহ শিক্ষার্থীরা মিছিলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ডাকসু জানিয়েছে, এ বিক্ষোভ শুধুমাত্র ক্ষোভ প্রকাশের জন্য নয়, বরং এটি হবে দেশের সকল বয়সী নাগরিকদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ।
নিরাপত্তা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যেই মিছিলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যস্ত। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমন্বয় করে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য নজরদারি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ডাকসু হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা কোনোরকম সহিংসতা বা নাশকতা পছন্দ করবে না এবং সকলেই শান্তিপূর্ণ ও সংবেদনশীলভাবে অংশগ্রহণ করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য কার্যকর এবং দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ অপরিহার্য। প্রশাসন, পুলিশ এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে অপরাধীদের কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া হয় এবং সমাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
নরসিংদীর কিশোরী হত্যাকাণ্ড দেশের সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে নৃশংস ঘটনার মধ্যে গণ্য হচ্ছে। এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনাস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা তা প্রকাশের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদকে বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বেছে নিয়েছে। ডাকসু বলেছে, শিক্ষার্থীরা দেশের ন্যায়ের পক্ষে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সমাজে পরিবর্তন আনার জন্য আন্দোলন করবে।
এছাড়া ডাকসু জানায়, বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা সামাজিক দায়িত্ব, মানবিক মূল্যবোধ এবং ন্যায়ের পক্ষে একত্রিত হয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করবে। তারা দাবি করছে, ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে তৎপর ও দৃঢ় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে দেশের মানুষ নিরাপদ বোধ করতে পারে।