সর্বশেষ :
চীনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে ৯ সামরিক কর্মকর্তা বরখাস্ত ভূমি সেবায় ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ আসছে: ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ আগে, অর্থের নিশ্চয়তা পরে: পানিসম্পদমন্ত্রী মির্জা ফখরুল জানালেন যথাসময়ে স্থানীয় নির্বাচন হবে চুয়েটে দ্বিতীয় ধাপের ভর্তি কার্যক্রম ১০ মার্চ গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কালীগঞ্জে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫ রোজাদার সতীর্থদের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে চোটের অভিনয়, ভাইরাল গোলরক্ষক ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ, উৎস নিয়ে মিলল দুই তথ্য

ঢাকার বাতাস বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত হলো আজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪২ বার
ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আজ শুক্রবার বিশ্বের ১২৩টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুগুণমান পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সকাল ৯টা ৪৭ মিনিটে ঢাকার বায়ু মান (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) ২৫৪ রেকর্ড করা হয়েছে, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। এমন পরিস্থিতিতে শহরের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকা মানুষদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

আইকিউএয়ারের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এদিন পাকিস্তানের লাহোর শহর ২২০ স্কোরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। লাহোরের বায়ুও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য বড় শহরগুলোর অবস্থাও উদ্বেগজনক। নেপালের কাঠমাণ্ডু ও ভারতের দিল্লি ১৮৭ স্কোরে যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে আছে। কলকাতার বায়ু মান ১৮৪, যা পঞ্চম স্থানে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, ৫০ স্কোর পর্যন্ত ভালো বায়ু হিসেবে বিবেচিত হয়, ৫১ থেকে ১০০ মানকে সহনীয় বা মাঝারি ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ অস্বাস্থ্যকর এবং ২০১ থেকে ৩০০ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’। ৩০০-এর বেশি হলে বায়ু দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

ঢাকার বাতাসের এই দূষণ শুধু মাত্র শহরবাসীর শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ সংকেত নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলতে পারে। যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া, কারখানা ও শিল্পাঞ্চলের ধোঁয়া, নির্মাণ কার্যক্রম এবং গ্রীষ্মের ধুলোমাখা বাতাস মিলিত হয়ে শহরের বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই দূষণ দীর্ঘমেয়াদি হলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ফুসফুসের রোগ, হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দূষণ পরিস্থিতি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে যানবাহনের ধোঁয়া ও ধুলোর ঘনত্ব অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া, কুড়ি থেকে তিরিশ বছরের পুরনো যানবাহন ও শিল্পায়ন কৌশলগুলোও দূষণ কমাতে যথেষ্ট কার্যকর নয়। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর বাতাসের দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, যেমন যানবাহনের ধোঁয়া কমানো, সবুজ বৃক্ষরোপণ, শিল্পের নির্গমন সীমাবদ্ধকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শহরবাসীর কাছে সতর্ক করেছেন যে, বাইরে ঘোরাঘুরি বা ব্যায়ামের সময় মুখে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। ধুলোমাখা এলাকায় দীর্ঘ সময় থাকা থেকে বিরত থাকতে হবে। শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া, ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বা পিউরিফায়ার ব্যবহার করেও দূষিত বাতাসের প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব।

ঢাকার বায়ু দূষণের এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থা নজরে রাখছে। বিশ্বের বড় শহরগুলোর সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, ঢাকা শুধু দক্ষিণ এশিয়ার নয়, বিশ্বমানের বায়ুদূষণের তালিকাতেও শীর্ষে। এতে রাজধানীর জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ নীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি দূষণ শুধু স্বাস্থ্য নয়, শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মক্ষমতা, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করে।

আইকিউএয়ারের প্রতিবেদনে ঢাকা শহরের দূষণের প্রধান কারণ হিসেবে যানবাহন নির্গমন, শিল্পাঞ্চল ও নির্মাণ কাজের ধুলো, বাড়ির রান্না ও শক্তিশালী বায়ুমণ্ডলীয় ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ক্ষতিকর কণা (PM2.5 এবং PM10) মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, নয়তো রাজধানীবাসী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে না।

এসব তথ্যের প্রেক্ষিতে নাগরিকদের সচেতনতা এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে, সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। রাজধানীর বায়ুদূষণ কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্ত নিয়ন্ত্রণ নীতি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত