বরিশালে বাস সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ২০

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩২ বার
বরিশাল বাস সংঘর্ষে নিহত

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বরিশালের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর ঢালে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ইসলাম পরিবহনের বাসচালক কবির হোসেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

গৌরনদী মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ জানান, পাথরঘাটা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইসলাম পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে দুই বাসের সামনের অংশ ভেঙে গিয়ে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। স্থানীয় মানুষরা দ্রুত দুর্ঘটনার স্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠান। তবে সেখানে চিকিৎসকরা ইসলাম পরিবহনের বাসচালককে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর উভয় বাসের যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে গাড়ি থেকে নেমে আশেপাশের সড়কে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন। আহত যাত্রীদের মধ্যে অনেকে শারীরিকভাবে ক্ষত-বিক্ষত হলেও দ্রুত চিকিৎসা পেয়ে রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে কমপক্ষে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে স্যালাইন, জরুরি ওষুধ এবং পর্যাপ্ত ডাক্তার-নার্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের যানবাহনের চাপ, সড়কের অসমান ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থা এবং কিছু চালকের অতিরিক্ত গতির কারণে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত মহাসড়কের সংস্কার ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেবে।

ওসি শামীম শেখ বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। উভয় বাস চালকেই ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পিছনের কারণ জানার জন্য আমরা সাক্ষী ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলছি। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, বাস দুটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। তবে চূড়ান্ত কারণ তদন্তপূর্বক জানানো হবে।’ তিনি আরও বলেন, আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং নিহত চালকের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসচালক ও যাত্রীরা জানিয়েছেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই নাজুক। রাতে সড়কে আলোর অভাব এবং অসংলগ্ন ট্রাফিক ব্যবস্থার কারণে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন। বিশেষ করে সেতুর ঢাল অংশে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেকে অভিযোগ করেছেন, সড়কের বেহাল অবস্থা ও বাসচালকদের দৌড়ঝাপের প্রতিযোগিতা যাত্রীদের জন্য ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।

সড়ক পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলেন, যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে সমন্বয়হীন চলাচল এবং অতিরিক্ত গতির কারণে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে মৃত্যুর আশঙ্কা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সরকারকে দ্রুত বাসের নিয়মিত চেকিং, চালকের প্রশিক্ষণ এবং মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বেসরকারি পরিবহন মালিক ও যাত্রীরা জানাচ্ছেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। তারা আশা করছেন, দুর্ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

দূর্ঘটনায় নিহত বাসচালক কবির হোসেনের পরিবারের সদস্যরা শোক প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, চালক ছিলেন অভিজ্ঞ এবং দায়িত্বশীল। তবে দেশের সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। তারা সরকারের কাছে দ্রুত সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই দুর্ঘটনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে মহাসড়কগুলোর বেহাল অবস্থা, অতিরিক্ত গতি, যানজট এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাব সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত