প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন। বৈঠকটি মূলত ফিলিস্তিন ইস্যু এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সৌদি আরবের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওয়ালিদ এলখ্রেইজি, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও নির্বাহী পরিচালনা কমিটির চেয়ারপারসন এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদুউ।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ওআইসি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক সহায়তার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের নীতি ও অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন, বিশেষ করে ফিলিস্তিন সংকট ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেন। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নির্বাচনের পর দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন। তারা নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে ওআইসি নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশের অবস্থান ফিলিস্তিন ইস্যুতে অটল থাকবে এবং দেশের কূটনৈতিক নীতি আন্তর্জাতিক ন্যায় ও মানবাধিকার রক্ষায় অবিচল থাকবে। তিনি ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন, যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতা বিষয়েও সমর্থন লাভের বিষয়ে আলোচনা হয়। ওআইসির শীর্ষ নেতারা বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, ড. খলিলুর রহমান আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কার্যক্রমে সফল হবেন। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশের এই পদ অর্জন আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বৈঠকের সময় অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দেশের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশংসার সঙ্গে উল্লেখ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশের স্থিতিশীল নেতৃত্ব দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
এই বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্বীকৃতি ও সমর্থনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বৈঠক শেষে ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ ওআইসির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অবদান রাখবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু কূটনৈতিক স্বীকৃতি নয়, বরং মানবিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ওআইসির সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
এ বৈঠককে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পাবে এবং ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।