প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে ভারতের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ইতিহাস গড়েছেন। চেন্নাইয়ের চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২১ বলে ৩১ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও, ৭২ রানে হেরে গেলেও রাজা ব্যক্তিগত কীর্তিতে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
সিকান্দার রাজা জিম্বাবুয়ের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন। ৩৯ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার এখন পর্যন্ত ১২৭টি ইনিংসে ৩০১৬ রান সংগ্রহ করেছেন। তার ব্যাটিং গড় ২৬.২২ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩৬.২৮। রয়েছে ১টি সেঞ্চুরি ও ১৬টি হাফ-সেঞ্চুরি। এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৩০০০ বা তার বেশি রান করা ১৪তম ব্যাটার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন।
এই তালিকায় পাকিস্তানের বাবর আজম, ভারতের বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা, অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্জসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিশিষ্ট ব্যাটাররা রয়েছেন। ব্যাট হাতে কীর্তির পাশাপাশি রাজা বল হাতেও উজ্জ্বল। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার ঝুলিতে রয়েছে ১০৪টি উইকেট।
রাজা বিশ্বের মাত্র পাঁচজন অলরাউন্ডারের মধ্যে একজন, যারা টি-টোয়েন্টিতে এক হাজারের বেশি রান এবং একশ’র বেশি উইকেটের ‘ডাবল’ অর্জন করেছেন। এই তালিকায় পাকিস্তানের শাদাব খান, আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী, ভারতের হার্দিক পান্ডিয়া এবং মালয়েশিয়ার ভিরানদীপ সিং রয়েছেন।
রাজার এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের জন্যও অনন্য গৌরবের বিষয়। দেশের ক্রিকেটের মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে জিম্বাবুয়ের অবস্থানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে রাজার অবদান অপরিসীম। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার হিসেবে তার নেতৃত্ব দলের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
বিশ্বকাপের এই ইনিংসটি যদিও জিম্বাবুয়ের হার দিয়ে শেষ হয়, তবুও রাজার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ক্রিকেটবিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তিনি দেখিয়েছেন, নির্ধারিত সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও কীভাবে একজন খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেন। ৩০০০ রানের এই মাইলফলক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রাজাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে।
রাজার এই কীর্তি শুধুমাত্র ব্যাট হাতে নয়, বল হাতে তাঁর অবদানের মাধ্যমেও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিয়মিতভাবে উইকেট নেওয়ার মাধ্যমে জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। টি-টোয়েন্টিতে এই দুই ধরনের দক্ষতা অর্জন করা খুবই কম অলরাউন্ডারের জন্য সম্ভব।
সিকান্দার রাজার অবদানের কারণে জিম্বাবুয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মান উন্নয়নে এগিয়ে যেতে পারছে। তার নেতৃত্বে দল শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করছে না, বরং আন্তর্জাতিক ম্যাচে জিম্বাবুয়ের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে। রাজার অনন্য অর্জন আগামী দিনে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি বিশেষ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় থাকবে।
অন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজার এই কীর্তি নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তার উদাহরণ দেখিয়ে, যেকোনো খেলোয়াড় ধারাবাহিকতা, ধৈর্য ও দক্ষতার মাধ্যমে মাইলফলক অর্জন করতে পারে। এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ইতিহাসেও স্বর্ণালি খণ্ড হিসেবে যুক্ত হয়েছে।