প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভারতীয় ক্রিকেটার রিঙ্কু সিংয়ের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গ্রেটার নয়ডার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তার বাবা খাচন্দ্র সিং। জানা গেছে, খাচন্দ্র সিং স্টেজ-৪ লিভার ক্যান্সারে ভুগছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়, কিন্তু চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
রিঙ্কু সিং টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারতীয় দলের সঙ্গে থাকলেও বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই পরিবারের পাশে থাকতে দেশে ফিরে আসেন। তার এই সিদ্ধান্তে দলের মধ্যে একটি মৃদু শোকের ছায়া নেমে আসে। রিঙ্কু এই মুহূর্তে নিজের পরিবারকে সমর্থন দেওয়ার জন্য পুরো মনোযোগ দিচ্ছেন। ক্রিকেটবিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত ক্ষতির মধ্যে থেকেও খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব বজায় রাখা কঠিন, এবং রিঙ্কু এই সময়ে পরিবারের সঙ্গে থাকা একান্ত প্রয়োজনীয়।
রিঙ্কু সিংয়ের বাবার মৃত্যু শুধুই পারিবারিক ক্ষতি নয়, এটি তার মানসিক ও আবেগিক অবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলেছে। একজন পুত্র হিসেবে বাবা হারানোর ব্যথা অনিবার্য। শোকের এই মুহূর্তে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মীরা তাকে সমর্থন জানাচ্ছেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও এই বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং রিঙ্কুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
পরিবারের প্রতি তার দায়িত্ববোধ ও আবেগিক সংযুক্তি রিঙ্কুকে এই মুহূর্তে মাঠ থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করেছে। তবে এখনও স্পষ্ট নয়, টুর্নামেন্টের বাকি অংশে তিনি দলে পুনরায় যোগ দেবেন কি না। ক্রিকেটবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রিঙ্কুর এই সময়ে মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া এবং পরিবারের পাশে থাকা তার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রিঙ্কু সিংয়ের বাবার মৃত্যুর খবরটি শুধু তার পরিবার নয়, পুরো ক্রিকেট সমাজকেই স্তম্ভিত করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তরা তাকে সমর্থন জানাচ্ছেন এবং তাঁর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন। ক্রিকেটারদের জীবনে পরিবার ও পেশাদারিত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখা সবসময় সহজ নয়, এবং রিঙ্কু এই মুহূর্তে সেই ভারসাম্যের মধ্যে একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই শোকের মুহূর্তে তার পরিবারের পাশে থাকা এবং আবেগিক শক্তি অর্জন করা রিঙ্কুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমকালীন ক্রিকেটের দিক থেকে দেখা যায়, খেলোয়াড়রা ব্যক্তিগত সমস্যার মধ্যেও মাঠে ফিরে এসে দারুণ পারফরম্যান্স দেখাতে পারেন, কিন্তু পরিবারের পাশে থাকা মানসিকভাবে তাদের জন্য অপরিহার্য। রিঙ্কুর এই সিদ্ধান্ত তাঁকে নতুনভাবে শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে মাঠে আরও দৃঢ় মনোবল নিয়ে ফিরে আসার সুযোগ দেবে।
রিঙ্কু সিংয়ের বাবার মৃত্যু ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও একটি সংবেদনশীল বিষয়। একদিকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলমান, অন্যদিকে একজন খেলোয়াড়ের পারিবারিক শোক এবং ব্যক্তিগত ক্ষতি সমাজকে আবেগিকভাবে স্পর্শ করছে। এই মুহূর্তে তার সহকর্মী এবং সমর্থকরা সবধরনের সাহায্য ও সমবেদনা প্রকাশ করছেন।
রিঙ্কুর প্রতি ভক্তদের সমর্থন এবং সহানুভূতি একটি শক্তিশালী সামাজিক সহায়তার মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিঙ্কু সিং পরিবারকে সমর্থন দিয়ে মানসিক শক্তি অর্জন করবেন, যা ভবিষ্যতে তার খেলার মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংবাদমাধ্যমও রিঙ্কু সিংয়ের শোককে গুরুত্ব দিয়ে কভার করছে। শোকের এই সময়ে ক্রিকেটের ভক্তরা তাঁর পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং তার প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন। এই শোক সমাজকে মানবিক এবং সহমর্মী দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বার্তা দিচ্ছে যে, খেলোয়াড়রা শুধুই ক্রীড়াবিদ নয়, পরিবার ও আবেগের সঙ্গে জড়িত মানুষ।