প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ব্রাজিলের ফুটবল সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র আবারো নিজের সুনাম ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। নতুন মৌসুমে সান্তোসকে প্রথম জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত কীর্তিতেও নজর কাড়লেন তিনি। ভিলা বেলমিরোতে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত লিগ ম্যাচে নেইমারের দুটি গোলই দলকে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে। এই জয়ে শুধুমাত্র দল নয়, সমালোচকদেরও স্পষ্ট বার্তা দিলেন নেইমার।
ম্যাচের শুরু থেকে সান্তোস আক্রমণাত্মক খেলায় দেখা গেছে। ২৫ মিনিটে দলের হয়ে প্রথম গোল করেন নেইমার। দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে করা এই গোলের পর গ্যালারির উদ্দেশে চুপ থাকার ইশারা করেন তিনি। পরবর্তীতে কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে উদ্যাপন করেন ভিনিসিউসের মতো, যেভাবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শেষ ষোলো-পর্বে বেনফিকার বিপক্ষে উদ্যাপন করেছিলেন ভিনি। এই উদ্যাপনের মাধ্যমে শুধু আনন্দই প্রকাশ করেননি, বরং বর্ণবাদী আক্রমণের প্রতিবাদও জানিয়েছেন।
ম্যাচের ৪৩ মিনিটে ভাস্কো দা গামা সমতা ফেরায়। তবে ৬১ মিনিটে নেইমার নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করে সমতা ভেঙে দেন এবং ম্যাচে জয়ের পথ সুগম করেন। এই জয়ে সান্তোস মৌসুমের প্রথম জয় পায়, যা দলের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নেইমারের ফিটনেস ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে অনেক আলোচনা চলছিল। ১৬ ফেব্রুয়ারি মাঠে ফেরার পর ভেলো ক্লাবের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। পরের ম্যাচে নভোরিজোন্তিনোর কাছে দলের পরাজয় হলেও নেইমার এবার আবারো নিজের প্রতিভা প্রমাণ করলেন। তার জোড়া গোল কেবল সান্তোসের জয় নিশ্চিত করেনি, বরং ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে।
ম্যাচ শেষে নেইমার সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত সপ্তাহে তারা বলছিল, আমি নাকি বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড়। আজ আমি দুই গোল করেছি এবং এটাই দরকার। এটাই ফুটবল। একদিন আপনি খারাপ খেলোয়াড় মনে হতে পারেন, পরের দিন আবার দেখবেন মানুষ আপনাকে বিশ্বকাপে খেলার উপযুক্ত মনে করবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার লক্ষ্য দলের জন্য খেলতে এবং জয় এনে দিতে। সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বেশি মাথা ঘামাই না, মাঠেই প্রমাণ করা প্রয়োজন।’
ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নেইমারের এই জোড়া গোল শুধুমাত্র জয়ই নিশ্চিত করেনি, বরং তার মানসিক দৃঢ়তা ও সমালোচকদের মুখবন্ধ করার ক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে। প্রতিটি গোলের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সঠিক সময় ও মনোবল থাকলে একজন খেলোয়াড় দলকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। নেইমারের উদ্ভাসিত পারফরম্যান্স কেবল ব্রাজিলের ফুটবলের জন্যই নয়, বিশ্ব ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস।
এই ম্যাচের মাধ্যমে নেইমার আবারও নিশ্চিত করেছেন যে, দলের জন্য ব্যক্তিগত কীর্তি ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা মিলিত হলে কেবল জয়ই আসে না, মাঠে দৃষ্টান্ত স্থাপনও সম্ভব। সান্তোসের ভিলা বেলমিরো মাঠে তার প্রতিভা, নেতৃত্ব এবং দৃষ্টান্তমূলক উদ্যাপন ফুটবলের মহিমা আরও উজ্জ্বল করেছে।
নেইমারের এই কীর্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা ছিল। তার জোড়া গোল প্রমাণ করে, সতর্ক ও মনোযোগী থাকার মাধ্যমে কোনো সমালোচনা বা চাপ তাকে থামাতে পারেনি। ফুটবলপ্রেমীরা আশা করছেন, এই ফর্ম অব্যাহত থাকলে নেইমার আরও বড় আন্তর্জাতিক আসরে ব্রাজিলের হয়ে উজ্জ্বল ভূমিকা রাখবেন।