সর্বশেষ :
চীনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে ৯ সামরিক কর্মকর্তা বরখাস্ত ভূমি সেবায় ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ আসছে: ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ আগে, অর্থের নিশ্চয়তা পরে: পানিসম্পদমন্ত্রী মির্জা ফখরুল জানালেন যথাসময়ে স্থানীয় নির্বাচন হবে চুয়েটে দ্বিতীয় ধাপের ভর্তি কার্যক্রম ১০ মার্চ গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কালীগঞ্জে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫ রোজাদার সতীর্থদের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে চোটের অভিনয়, ভাইরাল গোলরক্ষক ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ, উৎস নিয়ে মিলল দুই তথ্য

১২ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফে সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১২ বার
কৃষকের ঋণ মওকুফ সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের কৃষিখাতে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিতে ১২ লাখ কৃষকের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়, যা নতুন সরকারের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হিসেবেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

সরকারি সূত্র জানায়, দেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে এবং কৃষি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং বাজার অস্থিরতার কারণে বহু কৃষক ঋণের বোঝা বহন করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট অঙ্কের ঋণ হলেও সুদসহ তা অনেক সময় কৃষকের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়, যা উৎপাদন চক্র ব্যাহত করে এবং কৃষকের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের কৃষকদের এই ঋণ মওকুফ করা হচ্ছে। এতে করে কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং কৃষি খাতের মূলভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে সরকারের প্রত্যাশা। তার ভাষায়, সরকারের লক্ষ্য কেবল ঋণ কমানো নয়; বরং কৃষকের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং উৎপাদন ব্যবস্থাকে গতিশীল করা।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সুদসহ প্রায় এক হাজার ৫৫০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, যা এই সিদ্ধান্তের আওতায় আসবে। এ তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই অর্থ মওকুফ হলেও ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের চাপ পড়বে না, কারণ ঋণের অঙ্ক তুলনামূলকভাবে ছোট এবং সরকার প্রয়োজন হলে সমন্বয়মূলক সহায়তা দেবে।

অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করেন, কৃষকদের আর্থিক দায় কমানো হলে তারা নতুন করে উৎপাদনে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন। বিশেষ করে বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচব্যবস্থার মতো মৌলিক খাতে খরচ বাড়াতে পারবেন, যা সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে চাহিদা বাড়লে গ্রামীণ অর্থনীতিও সক্রিয় হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে।

গ্রামীণ বাস্তবতায় দেখা যায়, অনেক কৃষক অল্প ঋণ নিলেও সময়মতো পরিশোধ করতে না পারলে সুদের বোঝা বাড়তে থাকে। ফলে তারা নতুন ঋণ নিতে পারেন না এবং উৎপাদন ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত তাদের জন্য নতুন সূচনা তৈরি করতে পারে। কৃষি বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তা দেওয়া মানে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করা, কারণ দেশের মোট উৎপাদনের বড় অংশই আসে ছোট ও মাঝারি কৃষকের কাছ থেকে।

এদিকে কৃষক সংগঠনগুলোর নেতারা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলছেন, এটি শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা নয়; বরং কৃষকদের প্রতি রাষ্ট্রের আস্থার প্রকাশ। তবে তারা একই সঙ্গে কৃষি উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং সরাসরি বাজারে কৃষকের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে দীর্ঘমেয়াদে কৃষকরা টেকসইভাবে লাভবান হতে পারেন।

সরকারি নীতিনির্ধারকদের মতে, কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। শিল্প ও সেবা খাতের প্রসার হলেও কৃষি এখনো বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবিকার প্রধান উৎস। তাই এই খাতকে শক্তিশালী রাখতে নানামুখী সহায়তা প্রয়োজন। ঋণ মওকুফের পাশাপাশি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়নেও সরকার পরিকল্পনা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

নীতিনির্ধারকরা আরও মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সহায়ক হবে। কারণ কৃষকের আর্থিক দুরবস্থা প্রায়ই গ্রামীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং তা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রতিফলিত হয়। তাই ক্ষুদ্র ঋণ মওকুফকে তারা সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবেও দেখছেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি এই কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং প্রকৃত প্রাপকেরা সুবিধা পান, তবে এটি ভবিষ্যতে কৃষি সহায়তা কর্মসূচির একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, স্বচ্ছতা ও তথ্য যাচাই নিশ্চিত না হলে অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকতে পারে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকের এই সিদ্ধান্ত কৃষি খাতে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। এটি একদিকে কৃষকদের তাৎক্ষণিক আর্থিক স্বস্তি দেবে, অন্যদিকে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ তৈরি করবে। এখন নজর থাকবে বাস্তবায়নের দিকে—কারণ পরিকল্পনার সাফল্য নির্ভর করছে কত দ্রুত ও সঠিকভাবে এই সুবিধা মাঠপর্যায়ে পৌঁছায় তার ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত