সর্বশেষ :
চীনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে ৯ সামরিক কর্মকর্তা বরখাস্ত ভূমি সেবায় ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ আসছে: ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ আগে, অর্থের নিশ্চয়তা পরে: পানিসম্পদমন্ত্রী মির্জা ফখরুল জানালেন যথাসময়ে স্থানীয় নির্বাচন হবে চুয়েটে দ্বিতীয় ধাপের ভর্তি কার্যক্রম ১০ মার্চ গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কালীগঞ্জে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫ রোজাদার সতীর্থদের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে চোটের অভিনয়, ভাইরাল গোলরক্ষক ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ, উৎস নিয়ে মিলল দুই তথ্য

আফগানিস্তান-পাকিস্তান উত্তেজনায় যুদ্ধ থামাতে রাশিয়ার আহ্বান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ বার
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান রাশিয়ার

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত উত্তেজনা ঘিরে। চলমান সংঘাত ও সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়া দুই দেশকে যুদ্ধবিরতি ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং বলেছে, উত্তেজনা প্রশমনে প্রয়োজনে তারা মধ্যস্থতার কথাও বিবেচনা করতে প্রস্তুত।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আরআইএ জানায়, সীমান্তে হামলা ও পাল্টা হামলা বন্ধ করা এখন সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ। বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তেজনা বাড়লে শুধু দুই দেশ নয়, পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। তাই উভয় পক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রেখে আলোচনার মাধ্যমে মতবিরোধ নিরসনের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে মস্কো। রুশ কর্তৃপক্ষের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত কোনো পক্ষের জন্যই লাভজনক নয়; বরং এতে মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে গোলাগুলি ও উত্তেজনার ঘটনা বেড়েছে। সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা পোস্ট ও পারস্পরিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উত্তেজনার পেছনে ঐতিহাসিক সীমান্ত বিরোধ, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক বাস্তবতা কাজ করছে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে কেবল সামরিক নয়, কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।

এদিকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অ্যান্তোনিও গুতেরেস সীমান্ত সংঘর্ষ বৃদ্ধির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে উভয় দেশকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে প্রতিটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সংযম প্রদর্শন করা এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণ করা। তার মতে, সীমান্ত সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং বেসামরিক মানুষের জীবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শুধু রাশিয়া নয়, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিও পরিস্থিতি প্রশমনে ভূমিকা রাখতে আগ্রহ দেখিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, চাইলে তারা দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সংলাপই সবচেয়ে কার্যকর পথ এবং তেহরান শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই প্রস্তাব আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে, কারণ দেশটি ঐ অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রাখে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যু নয়; বরং এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক রাজনীতির অংশ। দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই নানা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস এই উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে সংঘাতের সম্ভাবনা কমাতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা বা বহুপাক্ষিক সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তারা বলছে, সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। গোলাগুলি ও সংঘর্ষের কারণে স্থানীয় জনগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বাসস্থান ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয় সংকট দেখা দিতে পারে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই উত্তেজনার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ বা ব্যাহত হলে স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে স্থলবন্দর ও সীমান্ত বাজারগুলোতে কার্যক্রম কমে গেলে হাজার হাজার শ্রমিক ও ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা বাড়ানোই উভয় দেশের জন্য লাভজনক।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ মস্কো দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়া যদি সত্যিই মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা কূটনৈতিক আলোচনার একটি নতুন পথ খুলে দিতে পারে। তবে তারা এটিও বলছেন, কোনো তৃতীয় পক্ষের উদ্যোগ সফল হতে হলে উভয় দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা জরুরি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান উত্তেজনা প্রশমনে দ্রুত আস্থা পুনর্গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সীমান্তে যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, সামরিক যোগাযোগ চ্যানেল সক্রিয় রাখা এবং কূটনৈতিক সংলাপ জোরদার করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও মধ্যস্থতাও এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সামান্য ভুল পদক্ষেপ বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তাই রাশিয়া, জাতিসংঘ ও ইরানের আহ্বান মূলত একটি সতর্কবার্তা—সংঘাত নয়, সংলাপই হতে পারে স্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আন্তর্জাতিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে উত্তেজনা প্রশমনে বাস্তব পদক্ষেপ নেয় কি না। বিশ্ব রাজনীতির দৃষ্টি আপাতত এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দিকে নিবদ্ধ রয়েছে, কারণ তাদের সিদ্ধান্ত শুধু নিজেদের নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত