সর্বশেষ :
চীনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে ৯ সামরিক কর্মকর্তা বরখাস্ত ভূমি সেবায় ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ আসছে: ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ আগে, অর্থের নিশ্চয়তা পরে: পানিসম্পদমন্ত্রী মির্জা ফখরুল জানালেন যথাসময়ে স্থানীয় নির্বাচন হবে চুয়েটে দ্বিতীয় ধাপের ভর্তি কার্যক্রম ১০ মার্চ গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কালীগঞ্জে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫ রোজাদার সতীর্থদের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে চোটের অভিনয়, ভাইরাল গোলরক্ষক ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ, উৎস নিয়ে মিলল দুই তথ্য

১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
বগুড়া ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে সরকার নতুন উদ্যোগ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে, যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আগামী ১০ মার্চ উত্তরাঞ্চলের জেলা বগুড়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে এটি তার প্রথম বগুড়া সফর হওয়ায় প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সফরকে ঘিরে শুধু সরকারি কার্যক্রম নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় এলাকায় অবস্থিত শাহ সুলতান বলখী মাজার প্রাঙ্গণে জুমার নামাজের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এর উদ্বোধন বগুড়া থেকেই শুরু করা হচ্ছে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এই প্রকল্পকে সরকার সামাজিক সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিটির পরীক্ষামূলক বাস্তবায়নের জন্য বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্য সুবিধাভোগী পরিবার শনাক্তে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, আয় এবং সামাজিক অবস্থান যাচাই করছেন, যাতে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলো এই সহায়তার আওতায় আসে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ডাটাবেইস ব্যবহার করা হচ্ছে এবং যাচাই-বাছাইয়ের একাধিক ধাপ রাখা হয়েছে।

এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র পরিবারগুলোর আর্থিক অনিশ্চয়তা কমানো এবং বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি যোগ্য পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাবে এবং পরিবার থেকে একজন নারী সদস্য কার্ডধারী হিসেবে নিবন্ধিত হবেন। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, নারীর হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছালে তা পরিবারের খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, ফলে সামগ্রিক জীবনমান উন্নত হবে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কর্মসূচিটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে এসব কমিটি কাজ করছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য যাচাই ও বাছাই কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সমাজসেবীদের সমন্বয়ে এই কমিটিগুলো কাজ করায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা সহজ হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাথমিকভাবে চার মাস পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি চালানো হবে। এই সময়ের মধ্যে এর কার্যকারিতা, সুবিধাভোগীদের প্রতিক্রিয়া এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়নে সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেলে ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। নীতিনির্ধারক মহলের ধারণা, সফল বাস্তবায়ন হলে এটি দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় একটি স্থায়ী কাঠামো হিসেবে যুক্ত হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পেলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো অন্তত নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে স্বস্তি পাবে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে যেখানে অনেক পরিবার মৌসুমি আয়ের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে মাসিক নির্দিষ্ট সহায়তা তাদের জন্য বড় সহায়ক হতে পারে। কিছু বাসিন্দা আবার আশা প্রকাশ করেছেন, প্রকৃত দরিদ্রদের তালিকাভুক্ত করতে যেন কোনো ধরনের পক্ষপাত বা অনিয়ম না হয়, সে বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারি করা উচিত।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরাসরি নগদ সহায়তা কর্মসূচি বিশ্বজুড়েই দরিদ্রতা কমাতে কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, যদি তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়। তারা বলছেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও আয়ের বৈষম্য এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রেক্ষাপটে ফ্যামিলি কার্ড উদ্যোগটি সফল হলে তা দারিদ্র্য বিমোচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বগুড়া জেলায় ইতোমধ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে এবং সম্ভাব্য জনসমাগম বিবেচনায় ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, এই সফর শুধু একটি সরকারি কর্মসূচির উদ্বোধন নয়, বরং অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরার সুযোগও বটে। তারা আশা করছেন, সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী এলাকার অবকাঠামো, কৃষি ও শিল্প খাতের উন্নয়ন নিয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরাসরি গিয়ে সামাজিক কর্মসূচি উদ্বোধন করা সরকারের জনসংযোগ বাড়ায় এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বোঝার সুযোগ দেয়। তারা মনে করেন, এ ধরনের সফর প্রশাসনের কার্যক্রমেও গতি আনে, কারণ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি স্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়ায়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও নিজেদের সমস্যার কথা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পায়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন শুধু একটি প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সম্ভাব্য নতুন আশার বার্তা। এখন দেখার বিষয়, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে এর ফলাফল কতটা ইতিবাচক হয় এবং তা ভবিষ্যতে সারাদেশে বিস্তৃত করার পথ কতটা সুগম করে। যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন সম্ভব হয়, তবে এই উদ্যোগ দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত