সর্বশেষ :
চীনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে ৯ সামরিক কর্মকর্তা বরখাস্ত ভূমি সেবায় ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ আসছে: ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ আগে, অর্থের নিশ্চয়তা পরে: পানিসম্পদমন্ত্রী মির্জা ফখরুল জানালেন যথাসময়ে স্থানীয় নির্বাচন হবে চুয়েটে দ্বিতীয় ধাপের ভর্তি কার্যক্রম ১০ মার্চ গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কালীগঞ্জে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫ রোজাদার সতীর্থদের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে চোটের অভিনয়, ভাইরাল গোলরক্ষক ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ, উৎস নিয়ে মিলল দুই তথ্য

গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০ বার
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা ও মতপ্রকাশের পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করতে গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বব্যবস্থায় গণমাধ্যমের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনায় সময়োপযোগী সংস্কার আনা এখন সময়ের দাবি, আর সেই লক্ষ্যেই সরকার পরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে।

শুক্রবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউজে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি গণমাধ্যমের ভূমিকা, স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার বিশ্বকে যেমন নতুনভাবে যুক্ত করেছে, তেমনি সংবাদ পরিবেশনের ধরণও বদলে দিয়েছে। ফলে প্রচলিত আইন ও নীতিমালার অনেক বিষয়ই এখন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যা সংশোধন করা জরুরি।

মন্ত্রী বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় বর্তমানের মতো ডিজিটাল ও অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যমের বিস্তার ছিল না। সেই সময়কার কাঠামো ও নীতিমালা মূলত প্রচলিত প্রিন্ট ও সম্প্রচারমাধ্যমকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন পোর্টাল, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম এবং মোবাইল সাংবাদিকতার বিস্তার সংবাদ পরিবেশনের পুরো কাঠামোকেই বদলে দিয়েছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে গণমাধ্যম খাতের উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা শুরু করেছে এবং ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সংস্কারের লক্ষ্য হবে এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, একই সঙ্গে পেশাগত মানদণ্ড বজায় থাকবে এবং জনস্বার্থ রক্ষা পাবে। তার মতে, স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা একে অপরের পরিপূরক; একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি টেকসই হয় না।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি বলেন, একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য অপরিহার্য। কারণ সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদই জনগণকে সচেতন করে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার অপব্যবহার যেন না হয়, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সাংবাদিক, সম্পাদক, মালিকপক্ষ ও নীতিনির্ধারকদের যৌথ উদ্যোগে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মতপ্রকাশের অধিকার ও নৈতিকতার মানদণ্ড পাশাপাশি চলবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নিয়ে জবাবদিহিতার একটি সুস্পষ্ট কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। এতে সাংবাদিক সমাজ, গণমাধ্যম মালিক, আইনজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে নীতিমালা বাস্তবসম্মত ও কার্যকর হয়। তার ভাষায়, জনগণের অবাধ তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্ব পালনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আগে অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এদিন মোট ৬১ জন ক্ষতিগ্রস্তকে ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর তহবিল থেকে প্রদান করা হয়। সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর সদস্যরা এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এই আর্থিক সহায়তা তাৎক্ষণিক স্বস্তি এনে দেয়। অনেক পরিবারই দুর্ঘটনার পর উপার্জনক্ষম সদস্য হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা তাদের নতুনভাবে জীবন শুরু করার সাহস জোগায়। মন্ত্রীও এ প্রসঙ্গে বলেন, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সরকারের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম খাত একদিকে প্রযুক্তিগত বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তথ্যের সত্যতা যাচাই ও ভুয়া খবর প্রতিরোধের মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার যদি আধুনিক, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে, তবে তা গণমাধ্যমের পেশাগত মানোন্নয়নে সহায়ক হবে। তারা মনে করেন, শুধু আইন প্রণয়ন নয়, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

গণমাধ্যমকর্মীদের একটি অংশ মনে করেন, স্বাধীনতার নিশ্চয়তা যেমন জরুরি, তেমনি নিরাপদ কর্মপরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানো দরকার। তারা আশা করছেন, সরকারের ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রমে এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ বজায় রাখা হবে।

সব মিলিয়ে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সরকার গণমাধ্যমকে কেবল তথ্য প্রচারের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে দেখতে চায়। সেই লক্ষ্যেই স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সমন্বয়ে একটি আধুনিক গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবে কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং তা দেশের গণমাধ্যম খাতে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত