প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু জানিয়েছেন, ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা ও অনিয়ম দূরীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশে উন্নত দেশের মডেলে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা হবে। তিনি বলেন, “ভূমি মন্ত্রণালয়ের আধুনিকায়নের মূল লক্ষ্য হলো সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ করা এবং সর্বস্তরের জনগণের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।”
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী নগরীর পদ্মা কমিউনিটি সেন্টারে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় আইন দ্বারা পরিচালিত হয় এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। যেখানে অনিয়ম বা জটিলতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে সংশোধনের জন্য যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই ভূমি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাক। এজন্য একক সেবা কেন্দ্র বা ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে এবং কম সময়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে পারেন। এতে জটিলতা কমবে, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত হবে।” তিনি আরও বলেন, রাজশাহীবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইটি সেক্টরসহ উত্তরের শিল্পঘন পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু আরও বলেন, “ওয়ান স্টপ সার্ভিস কার্যকরভাবে চালু হলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি কার্যক্রম ডিজিটালাইজড হবে। সেবা প্রার্থীরা এখন সরাসরি মন্ত্রণালয়ে না গিয়ে স্থানীয় কেন্দ্র থেকে দ্রুত তথ্য ও সেবা পাবে। এতে সরকারি কাজের সময় ও খরচ উভয়ই কমবে। আমরা চাই, প্রতিটি নাগরিক যেন আইন অনুযায়ী স্বচ্ছভাবে সেবা গ্রহণ করতে পারে।”
তিনি জনগণের সঙ্গে আলাপে জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে ভূমি সেবার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা ও অনিয়ম বিদ্যমান। সেগুলো দূরীকরণ এবং সেবা প্রক্রিয়ার মান উন্নয়নের জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করছি যাতে যারা সঠিকভাবে কাজ করবে, তারা যাতে যথাযথ স্বীকৃতি ও প্রেরণা পায়। এভাবে দুর্নীতি কমানো সম্ভব এবং সরকারের সেবা কার্যকরভাবে জনগণের কাছে পৌঁছাবে।”
ভূমিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ বিশেষ করে কৃষক, ক্ষুদ্র ও মধ্যবিত্ত ভূমি মালিক এবং সাধারণ নাগরিকরা ভূমি সেবা প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু হলে তাদের জন্য সেবা গ্রহণ আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই মানুষ যেন সরকারি কার্যক্রমে বিশ্বাস হারায় না। ভূমি মন্ত্রণালয় প্রতিনিয়ত নিজেদের কার্যক্রমকে আধুনিকীকরণ করছে। নতুন এই সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে নাগরিকদের সময় এবং অর্থের অপচয় কমবে, একই সঙ্গে প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়বে।”
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস শুধু সমস্যার সমাধান নয়, এটি ডিজিটালাইজেশন, স্বচ্ছতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের প্রতীক। ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা অনিয়ম দ্রুত সমাধান করার জন্য সেবাপ্রার্থীদের জন্য সহজ নোটিফিকেশন ও ট্র্যাকিং সিস্টেম থাকবে। এতে মানুষ নিজের সেবা প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবে।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূমি সেবা প্রার্থীদের জন্য আরও মানবিক, দ্রুত এবং কার্যকর হবে। মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সেবাপ্রার্থীরা সহজে তথ্য ও সেবা পাবে, এবং সরকারি সেবা সম্পর্কে তাদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয় কর্মকর্তা ও প্রশাসনকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন এই নতুন সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে।
মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং সেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য আমরা একনিষ্ঠভাবে কাজ করব। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি নাগরিক যেন সরকারি সেবা গ্রহণে সময়, অর্থ এবং শ্রম বাঁচাতে পারে এবং সরকারের ওপর আস্থা স্থায়ী হয়।”
রাজশাহীর জনগণ ও কর্মকর্তারা মন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন, এই উদ্যোগ সফল করতে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবেন। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের অন্য অঞ্চলেও ধাপে ধাপে এই ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা হবে, যা ভূমি সংক্রান্ত সেবাকে নতুন যুগের মান অনুযায়ী উন্নত করবে।