ইফতারের আগে রোজাদারের দোয়া কখনো রদ হয় না

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার
ইফতারের আগে রোজাদারের দোয়া কখনো রদ হয় না

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মানুষের জীবনে দোয়া কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়; এটি বান্দা ও রবের মাঝে এক গভীর আত্মিক সংলাপ। যখন দুনিয়ার সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তখনও দোয়ার দরজা খোলা থাকে। আল্লাহ তাআলা নিজেই ঘোষণা করেছেন, “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেব।” (সূরা গাফির, আয়াত : ৬০)। তবে সব দোয়া সমান মর্যাদার নয়; কিছু দোয়া এমন আছে যা আল্লাহর দরবারে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা পায়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাদিসে এই মর্যাদাপূর্ণ দোয়াগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। আবূ হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিন ব্যক্তির দোয়া রদ হয় না: ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যতক্ষণ না ইফতার করে এবং মজলুমের দোয়া। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তার দোয়া মেঘমালার ওপরে তুলে নেবেন এবং তার জন্য আসমানের দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হবে। আল্লাহ্ বলবেন, “আমার মর্যাদার শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করবো, যদিও একটু বিলম্ব হয়ে থাকুক।” (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৫২)।

বিশেষভাবে ইফতারের আগে রোজাদারের দোয়ার গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোজা কেবল ক্ষুধা ও পিপাসা সহ্য করার নাম নয়; এটি আত্মসংযম, তাকওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রশিক্ষণ। দিনের দীর্ঘ সময় ক্ষুধা ও তৃষ্ণার্ত থাকা রোজাদারের অন্তরকে নরম করে এবং অহংকার ভেঙে দেয়। এই মুহূর্তে তার দোয়া হয়ে ওঠে অধিক আন্তরিক।

হাদিসে উল্লেখিত এই বিশেষ মুহূর্তটি আলেমরা গভীরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। কারণ ইফতারের আগে বান্দার অন্তরে দীর্ঘ ইবাদতের ক্লান্তি, ধৈর্য এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরশীলতা থাকে। সে দুনিয়ার প্রাচুর্য নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিই কামনা করে। এই আন্তরিকতা দোয়াকে সরাসরি আসমানের দরজায় পৌঁছে দেয়।

ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন, রোজা মানুষের অন্তর পরিশুদ্ধ করে এবং দোয়াকে করে অধিক খাঁটি। ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, রোজা এমন একটি ইবাদত যা বান্দা ও আল্লাহর মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক স্থাপন করে। তাই এই ইবাদতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমলগুলোও বিশেষ মর্যাদা পায়।

হাদিসের শেষাংশে আল্লাহর শপথবাক্য বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। ‘আমার মর্যাদার শপথ’ এই ঘোষণা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি। সাহায্য তাৎক্ষণিক নাও আসতে পারে, কিন্তু বিলম্ব মানেই প্রত্যাখ্যান নয়। এটি হতে পারে উত্তম সময়ের অপেক্ষা অথবা আখিরাতের জন্য সংরক্ষিত মহা পুরস্কার।

রোযাদারের জন্য শিক্ষা হলো, ইফতারের আগে সময়টিকে অবহেলা করা যাবে না। এই মুহূর্তটি শুধু খাবারের অপেক্ষায় নয়, বরং দোয়া, ইস্তিগফার এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ মনোযোগে কাটানো উচিত। কারণ হতে পারে সেই মুহূর্তেই তার এমন একটি দোয়া কবুল হয়ে যাবে, যা তার দুনিয়া ও আখিরাতের গতিপথ বদলে দেবে।

সারসংক্ষেপে, রোজাদারের ইফতারের পূর্ব মুহূর্তের দোয়া তার জন্য এক অসাধারণ আধ্যাত্মিক শক্তি বহন করে। এটি তার নেক আমলকে আরও প্রশংসনীয় করে তোলে এবং আল্লাহর দয়া ও বরকত অর্জনের এক সুযোগ হিসেবে গড়ে তোলে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, বান্দা যদি আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করে, তবে দোয়া কখনো রদ হয় না।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত