জ্ঞান না দক্ষতা: কর্মক্ষেত্রে কোনটি বেশি জরুরি?

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
জ্ঞান না দক্ষতা: কর্মক্ষেত্রে কোনটি বেশি জরুরি?

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কর্মক্ষেত্রে সফলতার ক্ষেত্রে জ্ঞান এবং দক্ষতার মধ্যে ভারসাম্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের চারপাশে এমন উদাহরণ আছে যারা অনেক কিছু জানেন, কিন্তু কাজের সময় হিমশিম খেয়ে যান। আবার অনেকে খুব ভালো কাজ করতে পারেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে কার্যকারিতা ঠিকভাবে প্রমাণ করতে পারছেন না। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, শুধু জ্ঞান থাকা বা শুধু দক্ষতা থাকা—দুটোই একা কাজে পুরোপুরি কার্যকর নয়।

জ্ঞান বলতে আমরা সাধারণত সেই তাত্ত্বিক তথ্যকে বুঝি যা মানুষ শিখেছে, মনে রাখে এবং প্রয়োজনে অন্যকে বোঝাতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একটি সুপারমার্কেটের ক্যাশিয়ার যদি কোনো পণ্যের নম্বর মুখস্থ বলতে পারেন, সেটা তার জ্ঞানের পরিচয়। তিনি জানেন কোন পণ্যের দাম কত এবং কোম্পানির নিয়মকানুন কী। তবে বাস্তব পরিস্থিতি সামলানো এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। যখন সেই ক্যাশিয়ার বিশাল ভিড়ের মধ্যে শান্তভাবে কাজ করতে পারেন বা বিরক্ত কাস্টমারকে বুঝিয়ে শান্ত রাখতে পারেন, তখনই তার আসল দক্ষতা প্রকাশ পায়।

দক্ষতা হলো সেই অভিজ্ঞতা যা নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জিত হয়। একজন টেকনিশিয়ান যন্ত্র মেরামত করছেন বা একজন সেলসম্যান কাস্টমারের সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলছেন—এগুলো স্পষ্টভাবে দেখায় যে তারা শুধু জ্ঞানী নন, তারা দক্ষও। দক্ষতা হঠাৎ করে অর্জন করা যায় না; সময়, অভিজ্ঞতা এবং কঠোর পরিশ্রমের সঙ্গে এটি আসে।

কর্মক্ষেত্রে জ্ঞান এবং দক্ষতার পার্থক্য বোঝা সহজ। জ্ঞান হলো যা আপনি জানেন, আর দক্ষতা হলো যা আপনি করতে পারেন। কোনো কিছু ভুলে গেলে আপনি বই বা ইন্টারনেটের সাহায্যে তা আবার শিখতে পারেন। কিন্তু দক্ষতা অর্জনের জন্য নিয়মিত অনুশীলন অপরিহার্য। এই বাস্তবিক দিকটি কর্পোরেট বা আধুনিক কর্মক্ষেত্রে কার্যকরী হওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মীদের জন্য শুধু বই বা তথ্য জ্ঞান থাকা যথেষ্ট নয়। বাস্তব পরিস্থিতি অন্যরকম। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন কর্মী কোম্পানির রিটার্ন পলিসি পুরোপুরি জানেন (জ্ঞান), কিন্তু রাগী গ্রাহকের সঙ্গে ধৈর্য ধরে কথা বলার দক্ষতা না থাকলে, তিনি সফল হবেন না। আবার শুধু দক্ষতা থাকলেও প্রয়োজনীয় তথ্য জানা না থাকলে ভুলের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই, সফলতার জন্য জ্ঞান ও দক্ষতা উভয়ের সঠিক সমন্বয় অপরিহার্য।

বর্তমান কর্পোরেট বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কর্মীদের কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান না করে হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগও দিতে হবে। শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় ভিডিও, বই বা অনলাইন লার্নিং উপাদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব কাজের মাধ্যমে শিক্ষা আরো কার্যকর হয়। প্রযুক্তির সাহায্য যেমন এআই বা ডিজিটাল সহকারী ব্যবহার করা যেতে পারে তথ্য মনে রাখার জন্য, তবুও মানুষের হাতে থাকা দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।

কর্মীদের জ্ঞান এবং দক্ষতা একে অপরের পরিপূরক। একজন কর্মী যেমন সঠিক তথ্য জানতে হবে, তেমনি সেই তথ্য বাস্তবে প্রয়োগ করতে সক্ষমও হতে হবে। শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষা থাকলেই কার্যকরী হওয়ার নিশ্চয়তা নেই, আর শুধু দক্ষতা থাকলেও ফলাফল সবসময় সন্তোষজনক হবে না। ফলে, উভয়ের মধ্যে ভারসাম্য স্থাপন করাই মূল চাবিকাঠি।

পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক কর্মজগতে সাফল্য পেতে হলে একজন কর্মীর উচিত জ্ঞান এবং দক্ষতার মধ্যে সমন্বয় ঘটানো। প্রতিষ্ঠানগুলোরও উচিত কর্মীদের এই দুই ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সমান গুরুত্ব দেওয়া। যেসব কর্মী তাত্ত্বিক জ্ঞান জানেন এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ করার ক্ষমতাও রাখেন, তারা কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম।

কর্মক্ষেত্রে জ্ঞান এবং দক্ষতার সঠিক সমন্বয় শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, প্রতিষ্ঠান ও দেশের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যে কর্মী উভয় দিকেই দক্ষ, তার প্রভাব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা, গ্রাহক সন্তুষ্টি এবং সমগ্র কর্মপরিবেশে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। এটি প্রমাণ করে যে, জ্ঞান এবং দক্ষতা একসাথে না থাকলে সফলতা আংশিক এবং অস্থায়ী হয়ে থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত